উত্তরা আব্দুল্লাহপুর দুই মসজিদের সাথে হোটেল প্রাইম ইনে মাদক সেবন ও দেহব্যবসার অভিযোগ

23

সামছুদ্দিন জুয়েল :-

ঢাকা মহানগরীর উত্তরা আব্দুল্লাহপুর দুটি মসজিদের সাথে আবাসিক হোটেল প্রাইম ইনে দীর্ঘদিন যাবত মাদক সেবন জুয়া ও দেহ ব্যবসার পতিতালয় চলছে মুসল্লিসহ সাধারণ মানুষের ক্ষোভ।

এলাকাবাসী ও মসজিদের মুসল্লীদের দাবি সামনে একটি মসজিদ পিছনে একটি মসজিদ, দীর্ঘদিন যাবত অসামাজিক কার্যকলাপ নারী দেহব্যবসা, মাদক, জুয়া খেলা  চলছে আবাসিক হোটেল প্রাইম ইনে, উত্তরাতে রয়েছে এমন একাধিক হোটেল প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে। এলাকায় ব্যাপক হারে অপরাধ বেড়েই চলছে এদিকে অসামাজিক কার্যকলাপ মাদক দেহ ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরে চলছে।

এসি/নন এসি রুম, তাতে যুক্ত করা দুটা বা একটা মোবাইল নম্বর, ছোট্ট করে হোটেল কক্ষের ছবি, কোনোটায় গোলাপফুল বা ইন্টারনেট থেকে নামানো মেয়ের ছবিও দেয়া থাকে এরকম কার্ডে ছেয়ে গেছে রাস্তার দুই পাস, কিন্তু সেসব হোটেল বা গেস্ট হাউজের কোনো ঠিকানা উল্লেখ নেই। শুধু লেখা এলাকার নাম। কোনোটায় লেখা থাকে- আসার আগে ফোন দিন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যাক্তি দাবি করেন হোটেলের সামনে দিয়ে পথচারীদের যাতায়াতে বাধা দিয়ে তিন চারজন আওয়াজ করে বলে আসেন উপরে ভালো মাল আছে সব পাবেন। এলাকার একজন দোকানদার জানান ছদ্মবেশে হোটেল প্রাইম ইন আবাসিক এর উপরে গেলে এক ‘ভাই’ প্রশ্ন করলেন, কেমন বয়সী মেয়ে চান? স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি বা যে বয়সের চান সব আছে। বলেই তিনি পেছনে তাকাতে বললেন। ১৫-২০ জন নানান বয়সী মেয়ে সেখানে বসে আছে। সরাসরি অফার করে বসলেন তিনি। একবার দুইবার বা চাইলে সারারাত থাকতে পারবেন। এমন আরও অফারই তিনি করলেন।

জানতে চাওয়া হলো- প্রকাশ্যে আবাসিক হোটেলের কথা বলে এগুলো অসামাজিক কাজ চালাচ্ছেন। কেউ বাধা দেয় না? কার এত ক্ষমতা। ‘বড় ভাই’ আছে না? তবে তারা তাদের সেই ‘বড় ভাইয়ের’ নাম বললেন না। তাদের ভাষ্যমতে, সবই নাকি ম্যানেজ করা থাকে।  তবে কার্ডে এসব ‘ভাই’দের আসল নাম দেয়া থাকে না। এরা প্রকৃতপক্ষে যৌনকর্মীদের দালাল। এভাবে হোটেলের কথা বলে যৌনকর্মীদের কাছে নিয়ে যায়। কখনো বা সরাসরি অফার করে বাসায় সাপ্লাই দেয়ারও।

সৈয়দ শাহ জামে মসজিদ এর ইমাম মাওলানা আব্দুর রহিম বলেন, আমরা সব দেখতেছি এবং জানি তবে পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কান্ড আর দেখিনাই মসজিদের সাথে আবাসিক হোটেল এ লজ্জার বিষয়, মানবতা কোথায় প্রশাসন কিভাবে অনুমোদন দেয়।

কামাল উদ্দিন নামে মুসল্লী বলেন মসজিদের ২য় তলায় নামাজরত অবস্থায় মাদকের দুর্গন্ধ পাই আমরা এবং ছেলে মেয়ের চেঁচামেছি শোনা যায়। আমরা ৯০% মুসলিম দেশে মসজিদের সাথে পতিতালয় ও মাদক সেবন আর কোথাও নাই প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে আছে।

হোটেল কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে কিছু বললে তারা পুলিশ প্রশাসনের ভয় দেখায় এবং বলে থানায় মাসিক দিয়ে আমরা ব্যবসা করি তোরা পারলে কিছু করিস। এভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইয়ে মুসলিম সমাজে মসজিদের সাথে জুয়া, মাদক, ও পতিতালয় ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। মসজিদের মতোয়াল্লি খোকন বলেন, কিছু রাজনৈতিক  নেতা ও প্রশাসনের ছত্রছায়ায় চালাচ্ছেন এই ধরনের ব্যবসা। আমরা মসজিদের উপরে নামাজ পড়ে বের হলেই জানালা থেকে সমস্ত কান্ড দেখি। শবেবরাতের রাতেও দেখতে পাই, এ কান্ড।  আরো বলেন পাশের বিল্ডিংয়ে মালিক ফ্যামিলি নিয়ে বসবাস করে তারা মাঝেমধ্যে জানলা দিয়ে দেখতে পান অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক সেবনের চিত্র পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন নিয়ে খুব লজ্জায় আছে বলে দুঃখ প্রকাশ করেন, প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে। আমরা এর জন্য মুসলিম জাতি আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম।

আর নির্বাচন সামনে নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে আমরা জোরালোভাবে ভূমিকা পালন করব এই হোটেলে মাদক সেবন ও দেহ ব্যবসা বন্ধের জন্য। দীর্ঘদিন যাবত অনেক চেষ্টা করেছি সফল হতে পারি নাই মসজিদের মুসল্লী এবং কমিটি মাদক সেবন ও দেহ ব্যবসায়ীদের কাছে হেরে গেলাম। উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি কাজী রফিক বলেন এইরকম বিষয় হলে আমি এদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যাবস্থা নিব, সব ধরে নিয়ে আসবো মসজিদের সাথে অবৈধ ব্যাবসা বা আবাসিক হোটেল এটা মেনে নেওয়া যায়না।

Leave a Reply