রামগতির দক্ষিণাঞ্চালে সেনা ক্যাম্প স্থাপন ও অস্ত্র উদ্ধারের দাবীতে জাসদের সংবাদ সন্মেলন

18

লক্ষ্মীপুর থেকে মনির হোসেন চৌধুরী ঃ

লক্ষ্মীপুর-এ নির্বাচনী এলাকার চরাঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক ভোটার এলাকায়-হাতিয় ও রামগতির বয়ারচরের জলদস্যু ও খুল দস্যুদের সমন্বয়ে অগ্রধারী চিহ্নিত সশস্ত্র বাহিনী ও ফ্যাসিস্টদের সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যালট পেপার ও ভোটের বাক্স লুটপাট করে নিয়ে যাওয়ার মহাপরিকল্পনার প্রেক্ষাপটে-রামগতির ৭/৮ ও ৯ নম্বর ইউনিয়নে- দক্ষিণ অঞ্চলে নির্বাচনকালীন স্থায়ীভাবে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা-অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্র ধারীদের গ্রেপ্তার অত্যন্ত জরুরী সংবাদ সন্মেলন করেছে জাতীয় সমাজ তান্ত্রিকদল জাসদ ।

লক্ষ্মীপুর-৪ নির্বাচনী এলাকার চরাঞ্চলের উল্লেখিত ইউনিয়ন গুলিতে বিগত ৪০ বছর আমাদের ও আপনাদের দেখা মতে, জনগণ নির্বিঘ্নে নিরাপদে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট প্রয়োগ করতে পারে নাই। এই অঞ্চলের জলদস্যু এবং সশস্ত্র চিহ্নিত ডাকাতরা এই এলাকার নির্বাচনে প্রধানতম: নিয়ামক শক্তি হিসেবে দোদন্ড প্রতাপে এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে।

এই নির্বাচন কোনো প্রচলিত ক্ষমতা হস্তান্তরের লড়াই নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো রূপান্তরের এক ঐতিহাসিক সুযোগ। বাংলাদেশের ইতিহাসে জনগণ বারবার রক্ত দিয়ে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটালেও রাষ্ট্রের মালিকানা কখনোই জনগণের হাতে আসেনি। ক্ষমতা কেবল এক সুবিধাভোগী গোষ্ঠী থেকে আরেক গোষ্ঠীর হাতে গেছে, শোষণের কাঠামো অপরিবর্তিত থেকেছে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি এই চক্র ভাঙতে চায়। তাদের প্রস্তাবিত রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো- জনগণকে রাষ্ট্রের অংশীদার করা-গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, সাংবিধানিক সংস্কার, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, শ্রমজীবী, কর্মজীবী ও পেশাজীবীদের সরাসরি প্রতিনিধিত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে জাসদের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেল্লাল বলেন সম্মেলনে বলেন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমেই এই রূপান্তরের গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট সম্ভব। তাই এই নির্বাচন কেবল গনি দখলের প্রশ্ন নয়-এটি জনগণের সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্র সংস্কার এবং অংশীদারিত্বের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সন্ধিক্ষণ।

ভোট মানেই শুধু প্রতিনিধি নির্বাচন নয়; ভোট মানেই রাষ্ট্রের মালিকানা পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত।

সুতরাং নির্বাচনকে অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ করা সরকারের অঙ্গীকার ও জনগণের আকারক্ষা সুরক্ষিত করতে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ
ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এই নির্বাচন বিতর্কিত হলে রাষ্ট্র চরমভাবে ঝুঁকিতে পড়বে। কোনরকম দুর্বলতা পক্ষপাতিত্ব প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

লক্ষীপুর-৪ নির্বাচনী এলাকা ঘুরে এসে আমার পর্যবেক্ষণ, সাধারণ মানুষের মর্যাদা, মত প্রকাশ ও ভোটের অধিকার সংকুচিত হওযার লক্ষণ দৃশ্যমান। বিগত ৮ ই জানুয়ারি ২০২৬ রামদয়াল বাজারে আমাদের দলের নেতাকর্মীদের উপর গুলীবর্ষন, পরিকল্লিত হামলা, প্রকাশ্য মামলা, রক্তাক্ত জখম, অস্ত্রধারীদের প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এসবি, এনএসআই, ডিজিডিএফআই, র‍্যাবের গোয়েন্দা, স্থানীয় পুলিশ সোর্স সবাই ওয়াকিবহাল। কিন্তু অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে না। অস্ত্রধারীরা গ্রেফতার হচ্ছে না- উনারা প্রকাশ্যে চোখ রাঙিয়ে ভীতির সঞ্চার করে-সদাশয় প্রশাসন নির্লিপ্ত।

মাফিয়াচক্রের তত্ত্বাবধানে- রামগতির চর রমিজ ও চরগাজীতে অস্ত্রধারীদের প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া-লুটকৃত অস্ত্রের কথা সারণ করিয়ে দেয়। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার হয় নাই। উদ্ধার হবে কিনা? সদাশয় সরকারের নিকট জানতে চাই। ভোটের অধিকার জলদস্যু ও স্থল-দস্যুদের কব্জায়।মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সেনাবাহিনী প্রধান, রিটার্নিং অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট নিবেদন, অস্ত্র উদ্ধার করুন-জনগণকে নির্বিঘ্নে- নিরাপদে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ করে দেওয়ার আহবান জানান।

Leave a Reply