সৈয়দ সময়,নেত্রকোনা :
নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার গড়া ডোবা ইউনিয়নের বান্দনাল গ্রামে পৌঁছালে যে দৃশ্য চোখে পড়ে, তা যেন লোহার এক অমর সিম্ফোনি। শতাব্দী প্রাচীন পেশার ধারক এই গ্রামের কামালপাড়া এখনো লোহার দা, বঁটি, কোদাল, কাঁচি, কুড়াল, খুন্তি ও ছুড়ি তৈরি ও বিক্রির মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি ও ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
গ্রামের প্রতিটি কামারের আঙিনায় ঘন্টা পর ঘন্টা টুং টাং শব্দের ছন্দে মিশে আছে কঠোর পরিশ্রম ও শিল্পকলার মিশ্রণ। এই লোহার সরঞ্জাম শুধুমাত্র দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নয়, বিদেশেও খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে ব্যাপক চাহিদা রাখে। কামালপাড়ার এই শিল্প আজো শতাধিক বছরের ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে।
গ্রামের বড়রা জানান, এক সময় পুরো গ্রাম এই পেশায় নিযুক্ত ছিল। তবে সময়ের বিবর্তনে এখনো প্রায় ২০-২৫টি পরিবার তাদের পূর্বপুরুষদের যাদু ও কুশলতায় এই পেশা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ জানান, এই কাজের মধ্যে তাঁরা আনন্দ ও গর্ব অনুভব করেন। “প্রতিটি হাতিয়ার আমাদের জীবনের গল্প, প্রতিটি টুং টাং শব্দে বেজে উঠে আমাদের প্রজন্মের শ্রম ও ভালোবাসা,” বলেন স্থানীয় এক কামার।
গ্রামের লোহার সরঞ্জাম শুধু ব্যবহারিক নয়, এটি গ্রামীণ শিল্প ও সংস্কৃতির এক অমর প্রতীক। দেশ-বিদেশের ক্রেতারা এই হস্তনির্মিত লোহার সরঞ্জামের মান, স্থায়িত্ব এবং সৌন্দর্যের জন্য প্রশংসা করেন। বান্দনালের এই কামার পাড়া তাই শুধু নেত্রকোনার নয়, দেশেরই গর্ব।
বাংলাদেশের গ্রামীণ শিল্পে একটি স্থায়ী ঐতিহ্যকে ধরে রাখার মাধ্যমে বান্দনাল দেখিয়েছে, কিভাবে পিতৃপুরুষদের শৈল্পিক দক্ষতা ও শ্রম আজও যুগে যুগে ছড়িয়ে যায়। এই গ্রামের টুং টাং শব্দে বেজে ওঠা লোহার সিম্ফোনি শুধু কামারদের নয়, পুরো দেশের শিল্পপ্রেমীদের হৃদয়ে এক অমর ছাপ ফেলেছে।