‎‘জামায়াত ছাড়ুন, নইলে ইমামতি ছাড়ুন’ পিরোজপুর কাউখালীতে ইমামকে দায়িত্ব ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগ বিএনপি’র বি/রু/দ্ধে

79


‎নিজস্ব প্রতিবেদক:

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার চিরাপাড়া বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মো. জাহিদ হাসানকে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে দায়িত্ব ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে কাউখালী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে।

‎হাফেজ মো. জাহিদ হাসান অভিযোগ করেন, তিনি গত সাত বছর দুই মাস ধরে সুনাম ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাউখালী স্টিল ব্রিজসংলগ্ন চিরাপাড়া বায়তুল আমান জামে মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এ সময় স্থানীয় মুসল্লিদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।

‎সম্প্রতি মসজিদ কমিটির সভাপতি এস এম আহসান কবিরের পক্ষ থেকে তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি থেকে পদত্যাগ করার শর্ত দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন জাহিদ হাসান। তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ত্যাগ না করলে তাকে ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে—এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

‎জাহিদ হাসানের দাবি, তিনি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আদর্শ বিসর্জন দিয়ে ওই শর্ত মেনে নিতে রাজি না হওয়ায় তার ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়। একপর্যায়ে গত ২৫ আগস্ট তিনি মসজিদের ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন।

‎তিনি আরও জানান, সম্মানজনকভাবে বিদায়ের জন্য আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তবে তার সেই আবেদন বিবেচনা করা হয়নি এবং এক মাসের মধ্যেই তাকে দায়িত্ব ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার।

‎জাহিদ হাসান বলেন, “মসজিদ কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জায়গা নয়। একজন আলেম হিসেবে নিজের আদর্শ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিসর্জন দিয়ে কোনো অন্যায় শর্ত মেনে নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”

‎তবে এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি কাউখালী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এস এম আহসান কবিরের যোগাযোগ করলে তিনি জানান তাকে বলা হয়েছে তার ইউনিটের সভাপতি পদ ছাড়ার জন্য , সভাপতি পদ না ছাড়তে পেরে ইমাম সাহেব স্বেচ্ছায় ইমামতিপদ ছেড়ে দিয়েছে এব্যাপারে মাসুদ সাঈদীর সাথে আমার কথা হয়েছে, তার ইমামতিত নিয়ে আমাদের কোন প্রশ্ন নেই।

‎নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিটির অন্য এক সদস্য জানান হুজুর খুবই অভিজ্ঞ এবং ভালো মানুষ শুধু সভাপতি দ্বিমতের কারণে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মুসল্লি জানান হুজুরকে আমাকে খুবই দরকার হুজুরের আলোচনা এবং নিয়মিত নামাজ পড়ানো খুবই ভালো ছিল। হুজুর চলে যাওয়াতে আমরা খুব কষ্ট পেয়েছি শুধু আমি নয় মসজিদের সবাই সকল মুসল্লী কষ্ট পেয়েছে।

‎দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর বিদায় নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন জাহিদ হাসান। তিনি তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও মুসল্লিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভবিষ্যতেও সত্য ও ইসলামের পথে অবিচল থাকার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

Leave a Reply