

সৈয়দ সময়
মানুষের চোখে আমি দেখি ভাঙা সভ্যতার ধোঁয়া,
দেখি নিঃস্ব কৃষকের ঘামে জন্ম নেওয়া ভোর,
দেখি রাজপ্রাসাদের সোনালি জানালায়
একটি ক্ষুধার্ত শিশুর মুখ নীরবে কাঁদে।
আমি মানুষ’য়ের আয়না
আমার বুকে জমে থাকে যুগের দীর্ঘশ্বাস,
কারো গোপন পাপ, কারো অপ্রকাশিত প্রেম,
কারো রক্তমাখা হাত, কারো নিঃস্বার্থ আলিঙ্গন।
যখন পৃথিবী মুখোশ পরে উৎসব করে,
আমি তখন সত্যের শীতল নদী হয়ে
মানুষকে তার নিজস্ব মুখ দেখাই।
দেখাই
কত সহজে মানুষ পশু হয়,
কত কষ্টে পশুর ভিতর মানুষ জেগে ওঠে।
আমি দেখেছি
একজন মা রাতভর না খেয়ে
শিশুর মুখে তুলে দেয় শেষ রুটির টুকরো,
আর এক ধনী লোক
স্বর্ণের পেয়ালায় পান করে মানুষের কান্না।
আমি আয়না
তাই আমাকে ভাঙতে চায় অনেকে।
কারণ সত্যের চেয়ে ভয়ংকর আর কিছু নেই।
তবু প্রতিটি ভাঙা কাচের ভেতরেও
মানুষের মুখ আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আমি কোনো রাজদণ্ড নই,
কোনো ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতিও নই
আমি কেবল মানুষের অন্তরের প্রতিচ্ছবি,
যেখানে লুকিয়ে থাকে
আদিম অন্ধকার ও অনন্ত আলোর সহাবস্থান।
একদিন পৃথিবীর সমস্ত যুদ্ধ থেমে গেলে,
সমস্ত পতাকা নত হয়ে গেলে,
সমস্ত অহংকার ধুলোয় মিশে গেলে
মানুষ একা দাঁড়াবে নিজের সামনে।
সেদিন সে আমার ভেতর তাকিয়ে দেখবে
তার সবচেয়ে বড় পরিচয়
সে মানুষ।
আর আমি তখনও নীরবে বলবো
“তোমার হৃদয়ই পৃথিবীর শেষ আশ্রয়,
তুমি তাকে বাঁচাও।”