

জাকির হোসেন
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সুটিয়াকাঠি কমিউনিটি ক্লিনিকে সিএইচসিপির অনুপস্থিতিতে এক বৃদ্ধা নারীকে মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ রয়েছে, ক্লিনিকের স্বেচ্ছাসেবী মিতু আক্তার নিয়মিত রোগীদের ওষুধ বিতরণ করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভুক্তভোগী পারভীন বেগম জানান, গত বুধবার সকাল ১১টার দিকে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যার কথা জানিয়ে তিনি সুটিয়াকাঠি কমিউনিটি ক্লিনিকে যান। সে সময় ক্লিনিকে দায়িত্বরত সিএইচসিপি উপস্থিত না থাকায় স্বেচ্ছাসেবী মিতু আক্তার তাকে এক পাতা ‘এমলোডিপিন’ ওষুধ দেন।
পরে বাড়ি ফেরার পথে একটি দোকানে গিয়ে ওষুধ বের করতে গেলে তিনি দেখতে পান ওষুধের পাতাটি বেশ পুরোনো এবং একটি ট্যাবলেটও নেই। সন্দেহ হলে স্থানীয় যুবক হিমেলকে বিষয়টি দেখান। পরে হিমেল মেয়াদ পরীক্ষা করে জানান, ওষুধটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল শেষ হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী হিমেল বলেন, “পারভীন চাচী আমাকে ওষুধের পাতাটি দেখালে আমি মেয়াদ দেখে বুঝতে পারি এটি এক মাস আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। পরে আমরা ক্লিনিকে গিয়ে বিষয়টি জানালে মিতু বলেন, ভুলবশত তিনি ওষুধটি দিয়েছেন।”
হিমেলের অভিযোগ, ওই সময় মিতু আক্তার ক্লিনিকের ভেতরে বসে দুই শিশুকে পড়াচ্ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবী মিতু আক্তার বলেন, “আমি একটু বাচ্চা পড়াচ্ছিলাম। ভুল করে ওই ওষুধ দিয়ে ফেলেছি। বুঝতে পারিনি মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ক্লিনিকে কীভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এসেছে, তা বলতে পারব না।”
সুটিয়াকাঠি কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মোসাৎ শারমিন বেগম বলেন, “ঘটনার দিন আমি এসএসসি পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করছিলাম। মিতু মূলত ক্লিনিকের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করে। তাকে ওষুধ বিতরণ করতে নিষেধ করা আছে। শুনেছি সে এক বৃদ্ধাকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দিয়েছে। বিষয়টি আমিও খতিয়ে দেখছি।”
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে মৌখিকভাবে শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।