রূপসায় ইউপি চেয়ারম্যানকে হ/ত্যা/র হুম/কির ভিডিও ভাইরাল: বরাদ্দের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বি/ত/র্ক

48


​খুলনা প্রতিনিধি

খুলনার রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়ন পরিষদে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দুকে প্রকাশ্যে হ/ত্যা/র হু/মকি দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

​ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও থেকে জানা যায়, ঘাটভোগ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিকাইল বিশ্বাস চেয়ারম্যানকে অত্যন্ত অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করছেন এবং তাকে প্রাণে মে/রে ফেলার হু/মকি দিচ্ছেন। জানা গেছে, গত ৫ মে ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের অফিস কক্ষে এক বৈঠক চলাকালীন এই বাকবিতণ্ডা ঘটে। গো/পনে ধারণ করা প্রায় ৩ মিনিট ৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে মিকাইল বিশ্বাসকে বলতে শোনা যায়, “তোকে মাইরে রোডের সঙ্গে একেবারে শে/ষ করে দে/ব। তোর হাড়গোড় খুঁজে পাওয়া যাবে না।” তিনি আরও বলেন, তাকে ট্রাকের নিচে ফেলে দেওয়া হবে এবং তার পক্ষে মা/ম/লা করার মতো লোকও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

​ভিডিওতে আরও শোনা যায়, মিকাইল বিশ্বাস ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন কাজের টাকার অর্ধেক দাবি করছেন। তিনি বলেন, “পরিষদে যে কাজ আসবে, ওই কাজ সমান ভাগে ভাগ করবি। তোরা মেম্বার-চেয়ারম্যানরা অর্ধেক নিবি, আমাদের দলেরে অর্ধেক দিবি।” এ সময় উপস্থিত অন্যান্য বিএনপি নেতারা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

​এই বিষয়ে অভিযুক্ত মিকাইল বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আবেগের বশবর্তী হয়ে তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, বিগত দিনে বরাদ্দের অনি/য়ম নিয়ে তার ক্ষোভ ছিল এবং তিনি মূলত দলের স্বার্থে কথা বলেছেন।

​অন্যদিকে, ভুক্তভোগী চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম নন্দু জানান, মিকাইল বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে অনৈ/তিকভাবে উন্নয়ন কাজের ভাগ চেয়ে আসছিলেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কাজ করার কথা বলাতেই তিনি উত্তেজিত হয়ে এই ধরনের স/ন্ত্রা/সী আচরণ করেছেন। বিষয়টি তিনি ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় উর্ধ্বতন নেতাদের অবহিত করেছেন।

​ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও বইছে সমালোচনার ঝড়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। খুলনা জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply