পিরোজপুরে প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত সহিংসতা প্রতিরোধে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ইউটিউবারদের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

65


জাকির হোসেন

পিরোজপুর, ২৩ এপ্রিল ২০২৬: ডিজিটাল রূপান্তরের এই সময়ে প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা বা টিএফজিবিভি (Technology-Facilitated Gender-Based Violence) একটি ক্রমবর্ধমান সামাজিক ও মানবাধিকারগত উদ্বেগ হিসেবে সামনে এসেছে। বিশেষ করে নারী ও কন্যাশিশুরা এ ধরনের সহিংসতার ঝুঁকিতে বেশি থাকায় সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ এবং কার্যকর সমন্বয় এখন সময়ের দাবি।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) এবং পিরোজপুর গণ উন্নয়ন সমিতি-এর উদ্যোগে আজ ২৩ এপ্রিল ২০২৬ আয়োজন করা হয়, ‘প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রশমনে, এবং ইতিবাচক ডিজিটাল আন্দোলন গড়ে তোলায় স্থানীয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের ভূমিকা’ বিষয়ক অবহিতকরণ সভা। সভায় পিরোজপুরের ৩০ জন স্থানীয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর অংশগ্রহণ করেন যাদের সম্মিলিত ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ২৬ লাখের বেশি।

অবহিতকরণ সভার উদ্দেশ্য টিএফজিবিভি এবং টিএফজিবিভি মোকাবিলা সম্পর্কে স্থানীয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের ধারণা প্রদান এবং এ বিষয়ক কন্টেন্ট তৈরিতে তাদের উদ্বুদ্ধ করা। অংশগ্রহণকারী কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে টিএফজিবিভি মোকাবিলা বিষয়ক বার্তা প্রচারের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত  জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবির ত্রপা। উল্লেখ্য, বিএনএনআরসি “Strengthening Resilience against Technology-Facilitated Gender-Based Violence and Promoting Digital Development”/ ‘স্ট্রেনদেনিং রেজিলিয়েন্স এগেইনস্ট টেকনোলজি ফেসিলিটেটেড জেন্ডার বেইজড ভায়োলেন্স (টিএফজিবিভি) এন্ড প্রমোটিং ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় এই অবহিতকরণ সভা আয়োজন করেছে। প্রকল্পটি ‘নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ)’ কর্মসূচির অংশ, যা সুইজারল্যান্ড, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জিএফএ কনসালটিং গ্রুপের কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সভায় পিরোজপুর গণ উন্নয়ন সমিতির নির্বাহী পরিচালক জিয়াউল আহসান বলেন, বর্তমানে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো রেগুলেশন বা ফ্রেমওয়ার্ক নেই, যার কারণে অনেক সময় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়। সম্প্রতি যে সাইবার সিকিউরিটি আইন পাস হয়েছে, আশা করা যায় এর মাধ্যমেই কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন বা রেগুলেশন তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হবে।

Leave a Reply