

মোঃ নাসির উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি, পটুয়াখালী
মানুষের শেষ আশ্রয়টুকু যখন হয়ে ওঠে বাণিজ্যের পণ্য, তখন বেদনার ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন।
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আখোলা ইউনিয়নের মুদির হাট এলাকার সরকারি আবাসন প্রকল্পে এমনই এক হৃদয় বিদারক চিত্র সামনে এসেছে।
যে ঘরগুলো নির্মিত হয়েছিল গৃহহীন, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে—সেই ঘরই আজ ভাড়া দিয়ে আয় করছে প্রভাবশালীরা।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি আবাসনের ৮টি ঘর প্রতিটি ৭০০ টাকা করে মাসিক ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অথচ এই ঘরগুলো পাওয়ার কথা ছিল সেইসব মানুষের, যাদের জীবনে “নিজস্ব একটি ঘর” শুধুই স্বপ্ন।
সরকারি ঘরের বরাদ্দপ্রাপ্ত মালিক মোঃ ফারুক হাওলাদার নির্লজ্জ স্বীকারোক্তিতে বলেন,
“আমার ঘর আমি ভাড়া দিয়েছি, আমি ঢাকায় থাকি।”
তার এই বক্তব্য যেন অসহায় মানুষের বুকের ওপর আরেকটি আঘাত।
যেখানে একজন গরীব মানুষ দিনের পর দিন সংগ্রাম করে একটি আশ্রয়ের জন্য, সেখানে সেই আশ্রয়ই হয়ে উঠেছে টাকার বিনিময়ের পণ্য।
নাম প্রকাশে অনইচুক, ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“সরকার গরীবের জন্য ঘর দিয়েছে, আর তা ভাড়া দিয়ে দেওয়া হচ্ছে—এটা অন্যায়, এটা মেনে নেওয়া যায় না।”
এলাকা বাসির মধ্য অসহায় মানুষেরা চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে বলেন,
“আমরা থাকার জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে ভাড়া দিচ্ছি।
এই ঘর তো আমাদের পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এখন টাকার বিনিময়ে থাকতে হচ্ছে।”
এ যেন এক নির্মম বাস্তবতা—যেখানে গরীবের অধিকার তার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালীদের দখলে।
এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন,
“বিষয়টি শুনেছি, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে প্রশ্ন থেকে যায়—তদন্তের আগেই কতদিন এমন ভাবে গরীব মানুষের অধিকার লঙ্ঘিত হবে? কতদিন আশ্রয়ের স্বপ্ন দেখেও ভাড়াটিয়া হয়ে থাকতে হবে তাদের?
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তাদের দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রকৃত অসহায় মানুষদের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে তাদের ন্যায্য অধিকার—একটি নিরাপদ আশ্রয়।
কারণ, একটি ঘর শুধু ইট-সিমেন্ট নয়—এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন, নিরাপত্তা আর বেঁচে থাকার শেষ ভরসা।