মাটি খননের নির্মমতায় ভেঙে পড়ার মুখে বসতঘর, আতঙ্কে অসহায় পরিবারের প্রতিটি প্রহর

99


মোঃ নাসির উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি, পটুয়াখালী :-

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের নলুয়াভাগি গ্রামের এক অসহায় পরিবারের বুকভরা স্বপ্ন আজ ধুলিসাৎ হওয়ার পথে। জীবনের সব সঞ্চয়, কষ্টের ঘাম আর না-পাওয়ার বেদনা জড়ানো একমাত্র বসতঘরটি এখন দাঁড়িয়ে আছে চরম ঝুঁকির মুখে—যেন যেকোনো মুহূর্তেই মাটির সাথে মিশে যেতে পারে তাদের শেষ আশ্রয়।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বাড়ির পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশ ঘেঁষে গভীরভাবে মাটি খনন করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি খাস জমি ও রেকর্ডীয় জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির জন্য এই নির্মম খনন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আর সেই লোভের বলি হতে যাচ্ছে একটি অসহায় পরিবার।

মাটি সরে গিয়ে বসতঘরের ভিত্তি এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। ঘরের দেয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল, মেঝে দেবে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। প্রতিটি রাত যেন তাদের কাছে একেকটি দুঃস্বপ্ন—কখন যে ভেঙে পড়ে মাথার উপর থাকা শেষ ছাদ, সেই শঙ্কায় কাটছে দিন-রাত।

এলাকাবাসীরা জানান, “এই পরিবারটি অত্যন্ত অসহায়। তাদের দেখলে হৃদয় কেঁদে ওঠে। প্রতিদিন তারা ভয়ে থাকে—কখন যে ঘরটা ধসে পড়ে সব শেষ হয়ে যাবে!”
অভিযোগের তীর উঠেছে স্থানীয় আউয়াল হাওলাদার ও মতি হাওলাদারের দিকে। তবে এ বিষয়ে আউয়াল হাওলাদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়, যা স্থানীয়দের মাঝে আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য মোঃ মাসুম হাওলাদার (পিতা: ইলিয়াস হাওলাদার), ৯নং ওয়ার্ড, চর বাদুরা, নলুয়াভাগি ইউনিয়নের বাসিন্দা। ঘটনার সাক্ষী হিসেবে নজরুল হাওলাদার ও আবু তালেব ঢালীর নাম জানা গেছে।

এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি—অবিলম্বে অবৈধ মাটি খনন বন্ধ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং ঝুঁকিতে থাকা পরিবারটিকে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

একটি পরিবারের স্বপ্ন, একটি জীবনের আশ্রয়—কিছু অসাধু মানুষের লোভের কাছে যেন হারিয়ে না যায়। এখনই যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে যে কোনো মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা।

Leave a Reply