
সৈয়দ সময় , নেত্রকোনা :
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় ১৪ বছর বয়সী এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের পর সন্তান জন্মদানের ঘটনায় অভিযুক্ত কিবরিয়াকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে জনতা। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আগেই আসামিকে আইনের আওতায় আনার দাবিতে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় বারহাট্টা উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
‘সচেতন নাগরিক সমাজ, বারহাট্টা, নেত্রকোনা’র উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শত শত নারী-পুরুষ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, এটি শুধু একটি পরিবারের ওপর নির্যাতন নয় সমগ্র সমাজের বিবেকের ওপর আঘাত।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা-মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছয় মাসের দৌড়ঝাঁপ ও হতাশার কথা তুলে ধরেন। কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পরও আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে থানায় ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তারা ন্যায়বিচার পাননি। তিনি অভিযুক্তের সঙ্গে মেয়ের বিয়ের দাবি জানান।
কিশোরীর বাবা বলেন, “মামলার খরচ চালাতে আমার দেড় লাখ টাকার একমাত্র উপার্জনের গাড়িটি বিক্রি করতে হয়েছে। পুলিশ বলছে আসামিকে খুঁজে পাচ্ছে না, উল্টো আমাকেই আসামি ধরতে বলছে। এখন আমরা নিঃস্ব।”
মানববন্ধনে বক্তারা সিংধা ইউনিয়নের অভিযুক্ত কিবরিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে গ্রেপ্তার না হলে ৭টি ইউনিয়নের মানুষ রাজপথে নামবে। কেউ কেউ কঠোর কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দেন।
স্থানীয় কমিউনিটি ফোরামের সহ-নেত্রী মিনা রানী বলেন, “নারীরা আজ নিরাপত্তাহীন। নারী দিবসের আগেই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে হবে। না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
বক্তারা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল হকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। উল্লেখ্য, তিনি ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী পরিবারকে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন বলে মানববন্ধনে জানানো হয়। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এদিকে, আসামি গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে উপস্থাপনেরও ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। নারী দিবসকে সামনে রেখে বারহাট্টায় ন্যায়বিচারের দাবিতে এ প্রতিবাদ নতুন মাত্রা পেয়েছে।