
সৈয়দ সময়, নেত্রকোনা :
মোহনগঞ্জের নীরব দুপুর হঠাৎ ভেঙে গেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদচারণায়। ফার্মেসির সাইনবোর্ডের আড়ালে চলছিল মাদকের গোপন কারবার এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ অভিযানে উদ্ধার হলো ২৮৮ বোতল অবৈধ রেক্টিফাইড স্পিরিট (৯০%)। আটক করা হয়েছে একটি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির ম্যানেজার, সহকারী ম্যানেজার এবং এক কথিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসককে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মোহনগঞ্জ-এ অভিযান চালায় মোহনগঞ্জ থানা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌর এলাকার ‘মেসার্স টাঙ্গাইল ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি’-তে হানা দিয়ে উদ্ধার করা হয় ১৬০ বোতল অবৈধ স্পিরিট।
অভিযানে আটক হন এজেন্সির ম্যানেজার মো. আবু বকর সিদ্দিক (৪২) ও সহকারী ম্যানেজার মো. সুজাত মিয়া (৩৫)। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে দেওথান গ্রামের কথিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক বকুল সরকারের দোকানে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে আরও ১২৮ বোতল স্পিরিট জব্দ করা হয়। মজুত ও মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকেও আটক করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ফার্মেসির আড়ালে সন্দেহজনক কার্যক্রম চলছিল। তবে এত বড় পরিসরে অবৈধ স্পিরিট মজুদের ঘটনা এলাকাবাসীকে বিস্মিত করেছে। উদ্ধার হওয়া স্পিরিট চোরাচালান ও অবৈধ মাদক তৈরিতে ব্যবহারের আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, “ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি থেকে ১৬০ বোতল এবং ফার্মেসি থেকে ১২৮ বোতলসহ মোট ২৮৮ বোতল স্পিরিট জব্দ করা হয়েছে। আটক তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন। আগামীকাল তাদের আদালতে প্রেরণ করা হবে।”
মাদকবিরোধী অভিযানে এই সাফল্যকে স্বাগত জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাদের দাবি ,ফার্মেসি বা পরিবহন সংস্থার মতো আস্থার জায়গাগুলোতে যদি মাদকের ছোবল বাসা বাঁধে, তবে তা সমাজের জন্য অশনিসংকেত। তাই নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগই পারে এমন অপতৎপরতা রুখে দিতে।