
সৈয়দ সময় সারোয়ার, নেত্রকোনা :
স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসম্পৃক্ত উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে নেত্রকোনা পৌরসভা। আর এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছেন পৌর প্রশাসক মো. আরিফুল ইসলাম সরদার—একজন নির্ভীক, নিরহংকার ও কর্মদক্ষ প্রশাসক, যিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন পৌরসভাকে একটি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে।
দায়িত্বগ্রহণের পরপরই তিনি জেলা শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেন। নাগরিকদের প্রত্যাশা, সমস্যা ও প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করে গ্রহণ করেন বাস্তবমুখী পরিকল্পনা। গৎবাঁধা প্রশাসনিক চর্চা থেকে বেরিয়ে এসে তিনি চালু করেন সরাসরি অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা—যাতে ভুক্তভোগীরা দেরি বা ভোগান্তিতে পড়লে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করতে পারেন। ফলে সেবা গ্রহণে গতিশীলতা এসেছে, বেড়েছে আস্থা।
প্রজ্ঞা ও প্রয়াসে গড়া প্রশাসনিক পথচলা
১৯৮৩ সালের ১ জানুয়ারি কাশিয়ানী উপজেলার শুক্তা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মো. আরিফুল ইসলাম সরদার। পিতা আ.স.ম. মঈনুদ্দিন সরদার ও মাতা মমতাজ বেগমের সন্তান তিনি। শিক্ষা জীবনে তিনি যশোর জেলা স্কুল থেকে এসএসসি, যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়র মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
২৯তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে কর্মজীবন শুরু করেন ২০১১ সালে কুমিল্লা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে। পরবর্তীতে হাটহাজারীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি), নোয়াখালী সদর উপজেলায় দীর্ঘ তিন বছর তিন মাস উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম বিভাগে প্রাথমিক শিক্ষা পদকে শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে কুমিল্লায় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন প্রকল্পে দায়িত্ব পালনেও তিনি সুনাম অর্জন করেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পালন করছেন পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব।
অবকাঠামো উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পৌরসভার অবকাঠামোগত উন্নয়নে জোর দেন তিনি। ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প—
সাতপাই নেত্রকোনা সরকারি কলেজ থেকে রেলক্রসিং পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণ
মোক্তারপাড়া মেইনরোড সম্প্রসারণ ও আরসিসি সড়ক
জেলা সদর হাসপাতাল রোড, নিউটাউন পুকুরপাড়, বারহাট্টা রোড–রাজুর বাজার, গজিনপুর মার্কাস মসজিদ থেকে পুকুরিয়া, অগ্রণী ব্যাংক মোড় থেকে ইসলামপুর মোড়সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কের আরসিসি নির্মাণ
ধলাই নদী সংস্কার ও দুটি সাঁকো নির্মাণ
শহরের বিভিন্ন সেতু সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন
৪ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণ
১৩টি ডাস্টবিন স্থাপন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার
এডিপি ও টিআর কর্মসূচির আওতায় সিসি ও সলিং রাস্তা নির্মাণ
পৌর ভবনের সৌন্দর্যবর্ধন ও যানজট-ধুলো নিরসনে উদ্যোগ
এছাড়া পৌরসভার বিভিন্ন হিসাবের বিপরীতে জমে থাকা ৫৫ লাখ ৫০ হাজার ৫০৯ টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আর্থিক শৃঙ্খলাও প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি—যা প্রশাসনিক সততা ও দায়িত্ববোধের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।
জনসম্পৃক্ত উন্নয়নের মডেল
পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের শতাধিক সেবাগ্রহীতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উন্নয়ন কার্যক্রমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে সর্বমহলে। এতে যেমন সরকারি কাজের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও সচেতনতা বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে দায়িত্ববোধও।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন অসংখ্য ভুক্তভোগী ও সেবাগ্রহীতা সরাসরি পৌর প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমাধান পাচ্ছেন। “দেখা করতে সুযোগ পাইনি”—এমন অভিযোগ প্রায় নেই বললেই চলে।
মানবিক নেতৃত্বের দর্শন
নিজের আস্থার জায়গা সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. আরিফুল ইসলাম সরদার বলেন,
“অপার আনন্দে মানুষের সেবায় কাজ করতে যাই।
মানুষের মুখের হাসিই আমার প্রেরণা।”
প্রশাসনিক দক্ষতা, সততা, মানবিকতা ও দূরদর্শী পরিকল্পনার সমন্বয়ে তিনি ইতোমধ্যে নেত্রকোনা পৌরবাসীর হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বাস্তবায়নে নেত্রকোনার এই পৌরসভা আজ এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।
জনআস্থার এই সেতুবন্ধন টিকে থাকলে, নেত্রকোনা পৌরসভা নিঃসন্দেহে হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যান্য পৌরসভার জন্য এক অনুকরণীয় মডেল।