৪ মাস ধরে ভ্যাকসিনশূন্য নেত্রকোনায় আতঙ্ক: সদর হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে চরম সংকট

26

সৈয়দ সময় সারোয়ার , নেত্রকোনা :

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল এ কুকুর, বিড়াল ,বানর , বেজি ও শেয়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের জন্য জীবনরক্ষাকারী জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন (এআরভি) এখন কার্যত অধরা। টানা ৪ মাস ধরে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে সরকারি সরবরাহ না থাকায় জেলা ও আশেপাশে উপজেলার শত শত মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বাড়ছে মৃত্যু ঝুঁকি আতঙ্ক।হাসপাতালের বারান্দায় উদ্বিগ্ন স্বজনদের ভিড় কিন্তু ওষুধ নেই। বাহিরে ঔষধ কোম্পানীর সরবরাহও না থাকায় কোন ফার্মেসীতেও ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না ।

সরকারি সেবা কাগজে, বাস্তবে ‘সাপ্লাই নেই’
নিয়ম অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালে এই ভ্যাকসিন বিনামূল্যে পাওয়ার কথা। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে গেলেই দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানাচ্ছেন ,সরকারি মজুদ শূন্য। ফলে অনেকেই নিরুপায় হয়ে ফিরে যাচ্ছেন, কেউ কেউ দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে অতিরিক্ত অর্থ গুনে অনিশ্চিত পথে হাঁটছেন। সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে বারবার একই উত্তর“সাপ্লাই সংকট নাই ” এতে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের।

ফার্মেসিতেও হাহাকার, চড়া দামের মিলছে না কাঙ্খিত ভ্যাকসিন।অভিযোগ হাসপাতালে না পেয়ে রোগীরা শহরের বড় বড় ফার্মেসিতে ছুটছেন কোথাও নেই।সেখানেও দোকানে ভ্যাকসিন নেই বলে জানানো হচ্ছে। একাধিক রোগীর অভিযোগ, কিছু দোকানে গোপনে মজুদ থাকলেও তা কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। নিম্নআয়ের পরিবারের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব।
সদর উপজেলার এক ভুক্তভোগীর আর্তি, “কুকুরে কামড়ানোর পর দৌড়ে হাসপাতালে আসলাম। ডাক্তার বলল ভ্যাকসিন নাই। বাইরে গিয়েও পেলাম না। শরীরে যদি রোগ ছড়িয়ে পড়ে এর দায় কে নেবে?”

কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা হাসপাতাল সূত্র জানায়, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম। কেন্দ্রীয় সরবরাহব্যবস্থা থেকে ভ্যাকসিন না আসায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরবরাহ পেলেই সেবা স্বাভাবিক করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাতঙ্ক শতভাগ প্রাণঘাতী লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর চিকিৎসা প্রায় অসম্ভব। তাই কামড়ের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে; ফলে কামড়ের ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ভ্যাকসিন সংকট পুরো জেলার জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

দ্রুত পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর জোর দাবি জরুরি ভিত্তিতে সরকারি উদ্যোগে ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অতিমূল্য রোধে মনিটরিং জোরদার করা প্রয়োজন। জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিন যেন কারও নাগালের বাইরে না থাকে এটাই এখন নেত্রকোনাবাসীর প্রধান প্রত্যাশা।

Leave a Reply