
জুলফিকার আলী জুয়েল
গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার কুমুন গ্রামের বাসিন্দা নুরু খান (৪৯) অভিযোগ করেন,বাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সহ, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জমি দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তার দাবি, প্রায় ছয় বছর আগে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারসহ হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের একাধিক মানুষের জমি জোরপূর্বক দখল করা হয় এবং সেখানে মাছ চাষ শুরু করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।
নুরু খান জানান, জমি দখলের ঘটনায় তিনি মামলা দায়ের করলেও রাজনৈতিক প্রভাবে প্রধান অভিযুক্তের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে গত ছয় বছরে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সম্প্রতি তার ছেলের নামেও মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও সরকারি পণ্য আত্মসাতের একাধিক মামলা থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশি হয়রানি অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেন নুরু খান। এ কারণে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
নুরু খান আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে সাদিয়া আক্তার তাসমিনাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়ের করানো হয়। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ নূরে আলম রতনের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক সাইনবোর্ড লাগিয়ে বাড়ি দখলের চেষ্টা, চাঁদাবাজি এবং মিথ্যা চেক মামলার মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগও ওঠে। ভুক্তভোগীর দাবি, নির্মাণসামগ্রীর টাকা পরিশোধ করার পরও তাকে মামলা ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। অভিযুক্তের প্রভাবে তার ব্যাংক ঋণ কার্যক্রম ও স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।