ইমাম নিয়োগের বিরোধে রক্তক্ষয়: আতঙ্কে আটপাড়ার করারদূপ গ্রাম ফাঁকা

28

সৈয়দ সময় নেত্রকোনা :


নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের করারদূপ গ্রাম এখন কার্যত জনশূন্য। মসজিদের ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। নিরাপত্তাহীনতার ভয়ে শতাধিক মানুষ গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।

মামলার এজহার ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মসজিদের ইমাম নিয়োগ নিয়ে আব্দুর রউফ কাউসার ও মুকুল মিয়ার মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা দুই পক্ষের সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। গুরুতর আহত আব্দুর রউফ কাউসারকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ২৬ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

মৃত্যুর পর ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানা পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। পরে তার মরদেহ নিজ গ্রামে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই নূর মোহাম্মদ বাদী হয়ে আটপাড়া থানায় ৫০ জনের নাম উল্লেখসহ ৫–৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ২৬ ডিসেম্বর মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে।

মামলার পর একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনজন জামিনে মুক্ত থাকলেও ৪২ জন কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে যখন আসামিপক্ষের প্রায় তিন শতাধিক মানুষ সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় গ্রাম ছেড়ে চলে যান। এতে পুরো এলাকাটি প্রায় জনমানবশূন্য হয়ে পড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাদী ও বিবাদীপক্ষের মনির মিয়া, জামাল, ইকবাল, ইসলাম উদ্দিন ও আল আমিনের বাড়িসহ এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক কাঁচা-পাকা ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের চিহ্নে ছিন্নভিন্ন অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘরবাড়ি রক্ষার নাম করে লুটপাটকে ‘বাণিজ্যে’ রূপ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় মনির মিয়া বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ ৫–৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে আটপাড়া থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আটপাড়া থানার ওসি জোবায়দুল আলম বলেন,“দুই পক্ষের মারামারির ঘটনায় উভয় পক্ষের মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছুদিন পুলিশ মোতায়েন ছিল। বর্তমানে কয়েকজন জামিনে মুক্ত, বাকিরা হাজতে রয়েছেন। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”
তবে গ্রামবাসীদের বড় অংশের দাবি, স্থায়ী নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা না মিললে তারা ঘরে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না।

Leave a Reply