স্টাফ রিপোর্টার:
শরীয়তপুরের ভেদরঞ্জ উপজেলায় গ্রামীণ শিক্ষার দরজায় নতুন দিগন্ত খুলে দিল ‘সারথী মোবাইল লাইব্রেরি’। বইকে শহর থেকে গ্রামে নয়, বরং শিক্ষার্থীর ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার অভিনব উদ্যোগ হিসেবে গত (৬ ডিসেম্বর) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলার প্রথম মোবাইল লাইব্রেরি কার্যক্রমের সূচনা করেন জেলা প্রশাসক মিজ তাহসিনা বেগম।
কিশোর নেটওয়ার্কের উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রশাসন ও দি সিল ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নে গড়ে ওঠা এই লাইব্রেরিকে ঘিরে অনুষ্ঠানে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। উপস্থিত ছিলেন ইউএনও মোঃ আবু আবদুল্লাহ খান, এসিল্যান্ড কেএম রাফসান রাব্বি, প্রাণী সম্পদ অফিসার ডা. মোঃ ইমরান হোসেন,উপজেলা প্রকৌশলী অনুপম চক্রবর্তী, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এসএম গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবদুস ছোবাহান মুন্সি, সমাজসেবা অফিসার প্রিয়াংকা বিশ্বাসসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীরা।
উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক বলেন,
এটি কেবল মোবাইল লাইব্রেরি নয়, গ্রামীণ শিশুদের জন্য নতুন শিক্ষাবিপ্লব। বইয়ের সঙ্গে তাদের সেতুবন্ধ তৈরি করতে এই উদ্যোগ যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
ইউএনও মোঃ আবু আবদুল্লাহ খান বলেন,সারথী প্রকল্পের কারণে ঘরের ভেতরেই তৈরি হচ্ছে ক্ষুদে পাঠাগার। এটা শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ থেকে শুরু করে জ্ঞানচর্চা—সবকিছুতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বলেন, বিভিন্ন রকম বই সহজে হাতের কাছে পাওয়ায় তারা পড়াশোনায় নতুন উদ্দীপনা পাচ্ছেন। অভিভাবকরাও উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এতে শিশুরা ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি বইয়ের প্রতি আগ্রহী হবে।
উদ্যোক্তারা জানান, নিয়মিতভাবে গল্প–উপন্যাস, বিজ্ঞান,ম্যাগাজিন, কমিকসসহ নানান বিষয়ের বই সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। বই বিতরণ, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ দেখভাল করবেন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীরা। বই হারালে বা নষ্ট হলে শুধু বইটির মূল্য পরিশোধ করতে হবে—অতিরিক্ত কোনো জরিমানা নেই।
গ্রন্থপ্রেম জাগাতে,পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে এবং গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের আলো ছড়ানোর পথে এগিয়ে নিতে সারথী মোবাইল লাইব্রেরি এখন ভেদরঞ্জের নতুন আশার আলো।