জুলফিকার আলী জুয়েলঃ
গাজীপুরে “প্রেমের ফাঁদে” ফেলে মাত্র ১৩ বছরের এক মুসলিম কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, এটি কোনো সাধারণ অপরাধ নয়; বরং এটি উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের “Bhagwa Love Trap” নামে পরিচিত এক ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের অংশ।
পরিবারের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবক নিজেকে মুসলিম পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীর সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলে। সে নিয়মিত মেয়েটির সঙ্গে কথা বলত এবং ধর্ম সম্পর্কে জানার আগ্রহ দেখাত। কিছুদিনের মধ্যেই সম্পর্কটি ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটিকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত একটি নির্জন জায়গায় জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
ঘটনার পর মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভয় দেখিয়ে বলে—“ধর্ম পরিবর্তন না করলে ভিডিও প্রকাশ করবে।” পরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
মানবাধিকার সংগঠন “Protect Our Sisters BD” জানিয়েছে, এই ঘটনাটি তাদের হাতে পাওয়া “গেরুয়া প্রেমের ফাঁদ” চক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্কুল-কলেজ ও কর্মক্ষেত্রের মাধ্যমে মুসলিম নারীদের টার্গেট করছে। তারা প্রেম, বন্ধুত্ব ও ধর্মান্তরের ফাঁদ পেতে নারীদের শোষণ করছে, এমনকি পাচার ও হত্যার মতো অপরাধেও জড়িত।
লিফলেট ও প্রচারণার মাধ্যমে সংগঠনটি সতর্ক করছে—
“উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের মূল লক্ষ্য হলো মুসলিম নারীদের সতীত্ব নষ্ট করে প্রজন্ম ধ্বংস করা এবং সমাজে বিভেদ তৈরি করা। সময় থাকতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”
পুলিশ জানায়, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “এ ধরনের প্রতারণা ও ধর্মীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে।”
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা বাড়ালেই এমন অপরাধ রোধ সম্ভব।
তারা প্রত্যাশা করেছেন, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে।
আসুন, সময় থাকতে সচেতন হই — আমাদের কন্যাদের রক্ষা করি।