চরফ্যাশন প্রতিনিধি:
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের আলোচিত নাম এখন হাসান মিজি। দীর্ঘ প্রায় ১৬-১৭ বছর আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত থাকলেও, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আচমকাই বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন ।
হাসান মিজি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল বিএনপি’র দক্ষিণ অঞ্চলের খ্যাত বিচারক,স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব বিস্তার।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহল বলছে,আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে লেয়াজু করে হাসান মিজি চরফ্যাশন আদালতে মহরি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় দলের সাথে ওঠাবসার সুবাদে বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করেছেন। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক আনুগত্যও পরিবর্তন করেন তিনি। বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেকে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অপেক্ষমাণ রাজনীতিক হিসেবে দাবি করলেও বাস্তবে এলাকায় নানা শালিশ-বিচার, দরবার এবং ক্ষমতার প্রভাব খাটাচ্ছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, “কোনো স্থানীয় নেতা বা কর্মী নিজে থেকে সালিশি করবেন না।” অথচ হাসান মিজির নাম প্রায় সব সালিশ-বিচারে উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে গ্রামীণ বিরোধ ও শালিশে হস্তক্ষেপ করছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, হাসান মিজি মাদকসেবী ও মাদককারবারীদের ‘গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত। তার ছত্রচ্ছায়ায় এলাকায় অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে।
হাজারীগঞ্জের কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,রাজনীতি মানে জনগণের সেবা করা, কিন্তু হাসান মিজির ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সালিশ-বিচার ও প্রভাব খাটাচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
অন্যদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতার দাবি, হাসান মিজি দলের কোনো অনুমোদিত পদে নেই। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে সালিশ-বিচারে অংশ নেওয়া সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগ। দলের নীতির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
চরফ্যাশনের হাজারীগঞ্জে হাসান মিজির উত্থান ও দলবদল এখন স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সাধারণ মানুষ বলছেন, রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব খাটানো বন্ধ না হলে এলাকার সামাজিক স্থিতি নষ্ট হবে।
এ ব্যাপারে হাসান মিজির সাথে একাধিক যোগাযোগ ব্যবস্থা করা হলো তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া বলেন,কেন্দ্রের নির্দেশনা অপেক্ষা করে যারা এখনো পর্যন্ত শালিশ বিচারে যুক্ত আছেন,তাদের বিরুদ্ধে দল খুব শীঘ্রই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।