গাজীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুরের গাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ স্বার্থান্বেষী মহলের দখল ও অবহেলায় খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গত আগস্ট মাসের শুরুর দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অনুমতিক্রমে ‘গ্রামীণ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প পণ্যের মেলা’র নামে সেখানে লটারি বাণিজ্য শুরু হয়। তবে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ৫ সেপ্টেম্বর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মেলাটি বন্ধ হয়ে যায়।
কিন্তু মেলা বন্ধ হলেও মাঠে পড়ে রয়েছে ইট, বাঁশ, প্লাস্টিক ও নোংরা বর্জ্যের স্তুপ। এর ফলে মাঠটি এখনো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আছে। গাছা উচ্চ বিদ্যালয়সহ আশপাশের কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং এলাকার কিশোর-যুবকদের একমাত্র খেলার মাঠ এভাবে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ায় চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
মেলা আয়োজক আব্দুর রহমান বলেন, “জিএমপি কমিশনারের অনুমতি নিয়ে মেলা করেছি। মাঠ ব্যবহারের জন্য বিদ্যালয়ের সভাপতি মহোদয়কে ৫ লাখ টাকা দিয়েছি। অথচ আমরা মেলা থেকে কোনো ব্যবসা করতে পারিনি, উল্টো লোকসান হয়েছে। এখন মাঠ পরিষ্কার করতে গেলে সভাপতি কল দিয়ে আমার কাছেই আবার টাকা চান। আমি বলেছি, ৫ লাখ টাকা দেয়ার পরও যদি স্কুল কর্তৃপক্ষ ৫-১০ হাজার টাকা খরচ করে মাঠ পরিষ্কার না করে, তবে এটা অমানবিক।”
অন্যদিকে গাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনর রশিদ বলেন, “টাকার বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছু জানি না, এ ব্যাপারে সভাপতি মহোদয় ভালো জানেন। তবে মাঠ এখন খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আমরা দু-এক দিনের মধ্যেই পরিষ্কার করে মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করব।”
বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবু তাহের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “মেলা কর্তৃপক্ষ আমাদের কোনো টাকা দেয়নি। যারা এ দাবি করছে, তাদের সামনে আনুন, আমি সরাসরি কথা বলব।”
এদিকে মাঠ ব্যবহার করতে না পেরে ক্ষোভ ঝাড়ছে শিক্ষার্থীরাও। সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রাসেল আহমেদ বলেন, “মেলা হওয়ার কারণে আমরা অনেকদিন খেলতে পারিনি। এখন মেলা শেষ হলেও মাঠে ময়লা-আবর্জনা ও বাঁশ-ইট পড়ে আছে। তাই খেলতে পারছি না।”
দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আলিফ মাহমুদ জানান, আমরা দীর্ঘ দুই মাস মাঠে কোন খেলাধুলা করতে পারে না। আমরা চাই অতি দ্রুত মাঠটি খেলাধুলার উপযোগী হয়ে ওঠে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দ্রুত মাঠ পরিষ্কার করে খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।