গাজীপুরে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্তৃক ইনডোসর গার্মেন্টেস কর্মীদের বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা

32

গাজীপুর প্রতিনিধি:


গাজীপুরে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্তৃক ইনডোসর গার্মেন্টেস কর্মীদের বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম শুরু করেছে, দৃষ্টিশক্তি মানুষের জীবনে একটি মৌলিক চাহিদা। দৃষ্টির স্বচ্ছতা ছাড়া কোনো কাজই সঠিকভাবে করা সম্ভব নয়।

এরপরও, দৃষ্টিশক্তির স্পষ্টতার অভাবে অনেকেই উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ হারাচ্ছেন; ক্ষুণ্ণ হচ্ছে তাঁদের ব্যক্তিস্বাধীনতা আর সামাজিক মর্যাদা। দৃষ্টিশক্তি যেন কখনই জীবনে চলার পথে
বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজ করছে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স। সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সংস্থাটি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিনামূল্যে চোখ স্ক্রিনিং, চশমা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ প্রদান করছে।

মূলত তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের জীবন ও
জীবিকাকে প্রাধান্য দিয়ে এ কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ৭ আগষ্ট রোজ
বৃহস্পতিবার গাজীপুরের বোর্ড বাজার এলাকার ইনডোেসর সোয়েটার লিমিটেডে মোট ২০০ জনের চক্ষু
পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৭০ জনের মত চোখের সমস্যা ধরা পড়ে। যাদের চোখের সমস্য ধরে
পড়েছে, তাদেরকে বিনামূল্যে চশমা ও প্রযোজনীয় চোখের ড্রপ দেয়া হয়েছে।


তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মী থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত অনেকেরই জীবনকে উন্নত
করেছে; সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করেছে এবং মানুষকে নিজের মূল্য বোঝাতে শিখিয়েছে। এ
উদ্যোগের মাধ্যমে চলতি বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার জনের চোখ পরীক্ষা
করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬১% চোখে সমস্যা ধরা পড়েছে। এরা আগে কখনও চশমা পরেননি।


বেশিরভাগই নারীশ্রমিক, সংশোধনমূলক চশমা পেয়েছেন, যা তাঁদের আরও সঠিকভাবে ও দক্ষতার
সাথে কাজ করার সুযোগ করে দিবে। এর ফলে তাঁদের আয় বাড়বে, পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট
কারখানাগুলোর উৎপাদনশীলতাও বৃদ্ধি পাবে।
গাজীপুরে আয়োজিত এ চক্ষু পরীক্ষা কার্যক্রমে উপস্থিত ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের সিনিয়র প্রোগ্রাম
ম্যানেজার নূর ই আলম বলেন, মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচি থেকে সমাজের মানুষের মৌলিক অধিকার
নিশ্চিত করা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করার জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ চলমান রয়েছে। নিম্ন
আয়ের মানুষের জন্য চক্ষু চিকিৎসা নিশ্চিত করা উদ্যেগগুলোর মধ্যে অন্যতম।

এই উদ্যোগগুলির
অর্থনৈতিক প্রভাবও অনেক। পরিষ্কার দৃষ্টিশক্তির মাধ্যমে কর্মীদের সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত
হচ্ছে; কমছে কাজে ত্রুটির হার, বাড়ছে কর্মক্ষমতা এবং আত্মবিশ্বাস। গবেষণায় দেখা গেছে যে উন্নত
দৃষ্টিশক্তি কর্মীদের উৎপাদনশীলতা ২২% পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারে।

যদি চশমাপ্রাপ্তদের অর্ধেকেরও
১০% করে কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়, তাহলে কারখানাগুলির সার্বিক আয় বৃদ্ধি পাবে এবং এর
ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের জিডিপিতে।
এ কার্যক্রমে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এমএফ আরবানের ডিভিশনাল ম্যানেজার খন্দকার
আবদুর রহমান, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক শেখর রয় এবং স্থানীয় কর্মীরা।

Leave a Reply