সাতক্ষীরায় জনস্বাস্থ্য অফিসের টেন্ডার বানিজ্যের নেপত্যে তৈমুর -মফিজ

41

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :


যোগাদানের শুরুতে টেন্ডার বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরার জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলী ইব্রাহিম মো. তৈমুরের বিরুদ্ধে। তার সহযোগী হিসাবে রয়েছে সদর জনস্বাস্থ্যের উপ-প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমান । অভিযোগ রয়েছে ,কুষ্টিয়া জেলায় আ”লীগ নেতার জামা হওয়ার সময়ে চাকরির জীবনে বেপরয়া হয়ে ওঠেন তৈমুর।

এরপর নিজেকে শেখ সোহেলের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে শুরু করেন টেন্ডার বানিজ্য। গেল ৫আগষ্ট গন অভ্যুথানে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলে ভোল পাল্টিয়ে নিজেকে জামায়তের সহযোগি হিসাবে প্রমানে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। এদিকে বদলীর ৫ মাস পরে সাবেক কর্মস্থলে ফিরে পুনরায় দূর্নীতিতে জড়িয়েছেন সদর জনস্বাস্থ্যের উপ-প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমান। নিজের অফিসে না মাত্র হাজিরা দিয়েই জনস্বাস্থ্যর সদর দপ্তরে সারাক্ষন প্রকৌশলী ইব্রাহিম মো. তৈমুরের সাথে বসে ঘুষ বানিজ্যে মত্ত থাকেন তিনি।

সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্যের বকুল মিয়া , ময়নুল ইসলাম নামে কয়েকজন ঠিকাদার জানান, বছরের শুরুতে যেগদান করেন ইব্রাহিম মো তৈমুর। এরপর থেকে অফিসের টেন্ডার দূনীতির এক সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।তার একান্ত সহযোগী হিসাবে কাজ করে উপ-প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমান । সম্প্রতি জনস্বাস্থ্যের তিনিটি প্রকল্পে টেন্ডার( ১০৮২২৪, ১১০৮২২৬,১১০৮২২৫,১১০১৭৮৬,১০৯৫৮৩১) ঘোষনা করে সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্য। ওই টেন্ডার পান কুষ্টিয়া জেলার আল জাবের ট্রেডার্সের আয়াজউদ্দীন, গোপালগজ্ঞ জেলার
মনির এন্টারপ্রাইজের মনির হোসেন নামে নামে দুই ঠিকাদার। এসব ভুয়া টেন্ডারবাজিতে নেপত্যে থেকে কাজ করেন মো. মফিজুর রহমান । বর্তমানে এসকল কাজের দেখভাল করে মফিজুর রহমান বলে অফিস পাড়ায় গুজ্ঞন রয়েছে ।

নাম না জানানোর শর্তে স্থানীয় এক ঠিকাদর জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ইব্রাহিম মো. তৈমুর বেশির ভাগ সময় কুষ্টিয়াতে কর্মরত ছিলেন।তার শ্বশুর এড আক্তারুজামান মাসুম কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন।তিনি ওই পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে গোপালগঞ্জের শেখ পরিবারের লোকজনের সাথে গভীর সখ্যতা গড়ে তোলেন।কূষ্টিয়া থাকা কালিন সময়ে তিনি শ্বশুরের পরিচিত ২জনকে ২কোটি টাকার টেন্ডার পাইয়ে দেন। এরপর সাতক্ষীরায় এসে একই কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি সময়ে তিনি জাল সনদের টেন্ডার ধরলেও তিনি কোন ব্যাবস্থা নাও নেওয়া ঠিকাদার মহলে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্য সদর অফিসের উপ- প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমান এর আগে সাতক্ষীরায় ছিলেন ।এরপর দূর্ণীতির অভিযোগে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলায় বদলী হন । বদলীর ঠিক ৫ মাসের মাথায় পূর্বের কর্মস্থলে ফিরে আসেন অসাধু কর্মকতার মাধ্যমে ।

তিনি আরো জানান, মফিজুর রহমানের গ্রামের বাড়ি মনিরামপুরের ২ নং ওয়ার্ডে । তার পারিবারিক অবস্থা তেমন ভাল না । কয়েকবছর চাকুরির সুবাদে সে বর্তমানে দেড় কোটি টাকা মূল্যের বিলাশ বহুর বাড়ি নির্মান করেছেন । তার অবৈধ আয়ের একমাত্র উৎস টেন্ডার বানিজ্য । এজন্য তিনি বার বার ঘুরে ফিরে সাতক্ষীরাতে আসেন ।

অভিযোগ অস্বীকার করে মফিজুর রহমান জানান, আমি টেন্ডার সংক্রান্ত কোন বিষয়ে জড়িত নই। এছাড়া আমি কোনদিন দূনীতির সাথে আপোশ করিনি ।তবে দেড়কোটি টাকা মূল্যের বাড়ির বিষযে প্রস্ন ছুড়ে দিলে কোন সদোত্তর দিতে পারেননি ।

সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্য নির্বাহী প্রকৌশলী ইব্রাহিম মো.তৈমুর জানান, টেন্ডার প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে হয় । এখানে আমার কোন কর্তৃত্ব নেই । শ্বশুর কুষ্টিয়ার আ’লীগ নেতার সুবাদে টেন্ডার সিন্ডেকেটের বিষয়ে প্রস্ন ছুড়ে দিলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। এরপর অফিসে চা খেতে আসেন বলে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।

Leave a Reply