ঈদের আনন্দ বিষাদে রূপান্তর: শোকের মিছিলে ২০০ প্রাণ, ফিকে হয়ে গেছে উৎসবের রং

29


​নিজস্ব প্রতিবেদক :-

​পবিত্র ঈদুল ফিতর বা আজহার আনন্দ নিয়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে গিয়ে এবারের ঈদ যাত্রা যেন এক ‘মৃত্যুর মিছিলে’ পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সড়ক, মহাসড়ক ও নৌপথে ভয়াবহ সব দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০০-র বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। যে ঘরগুলোতে ঈদের আনন্দ আর উৎসবের কলরব থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন কেবলই প্রিয়জন হারানোদের গুমরে কাঁদা আর হৃদয়বিদারক আর্তনাদ।

​সড়ক যেন এক মরণফাঁদ
​বিগত কয়েকদিনের ঈদ যাত্রায় হাইওয়ে এবং আঞ্চলিক সড়কগুলোতে দুর্ঘটনার হার অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। তথ্যমতে, বেপরোয়া গতি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং চালকদের ওভারটেক করার প্রতিযোগিতাই ছিল অধিকাংশ দুর্ঘটনার মূল কারণ। বাড়ি ফেরার পথে একেকটি পরিবারের স্বপ্ন ধুলোয় মিশে গেছে মুহূর্তের অসতর্কতায়।

​নিহতদের তালিকায় শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—কেউই বাদ পড়েননি। অনেক পরিবারে এখন কেবল শোকের মাতম। কোনো কোনো পরিবার তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন দিশেহারা।

​বিষাদগ্রস্ত ঈদ উৎসব
​ঈদ মানেই আনন্দ আর নতুন পোশাকের হাসি, কিন্তু এবার অনেক গ্রামে ঈদের নামাজ শেষে হয়েছে জানাজা। স্বজনদের অপেক্ষায় সাজানো ঘরগুলো এখন শ্মশানে পরিণত হয়েছে। যারা ঈদের নতুন কাপড় পরে হাসিমুখে বিদায় নিয়েছিলেন, তারা আজ সাদা কাফনে মোড়ানো অবস্থায় বাড়ি ফিরছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্রই এখন এই শোকের ছায়া। সাধারণ মানুষ এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে আল্লাহর দরবারে রহমত ও সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা করছেন।

​প্রশাসনের সতর্কতা ও বাস্তবতা
​প্রতিবছর ঈদের আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতির কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র যেন ভিন্ন। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন এবং মহাসড়কে নজরদারির অভাবকেই দায়ী করছেন সাধারণ মানুষ। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে না পারলে প্রতি বছর এভাবেই ঈদের আনন্দ বিষাদে রূপ নিতে থাকবে।

​”আমরা ঈদের আনন্দ করতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু আমার ভাইকে এখন দাফন করতে হচ্ছে। আমাদের জন্য ঈদ আর কোনো দিন আসবে না।” — দুর্ঘটনায় নিহত একজনের স্বজনের আহাজারি।
​নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় দেশের বিভিন্ন মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়েছে।

Leave a Reply