উৎসবে-আত্মিকতায় আলোকিত দুর্গাপুর: গারো ব্যাপ্টিস্ট কনভেনশনের ১৩৫তম মহাসম্মেলনে জনসমুদ্র

29

সৈয়দ সময়, নেত্রকোনা :

দুর্গাপুর উপজেলা আজ যেন শুধুই একটি জনপদ নয় এটি পরিণত হয়েছে বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক বিশাল মিলনমেলায়। নেত্রকোনা জেলা-র এই পাহাড়ঘেরা সবুজ উপত্যকায় শুরু হয়েছে গারো ব্যাপ্টিস্ট কনভেনশন (জিবিসি)-এর পাঁচ দিনব্যাপী ১৩৫তম বার্ষিক সম্মেলন। দেশের আটটি জেলা থেকে আগত হাজারো খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীর পদচারণায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

বুধবার সন্ধ্যায় পৌর শহরের জিবিসি মাঠে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কনভেনশনের প্রেসিডেন্ট সুবন্ত রখো। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ঐতিহ্যের দীপ্তি আর আনন্দঘন আবহে শুরু হওয়া এ সম্মেলন চলবে আগামী রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত।
এবারের সম্মেলনের মূলবচন নেওয়া হয়েছে বাইবেলের এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ বাণী
“তখন তিনি আপন শিষ্যদিগকে কহিলেন, শস্য প্রচুর বটে, কিন্তু কার্যকরী লোক অল্প।”
এই বাণীকে সামনে রেখেই আত্মিক জাগরণ ও সেবার আহ্বান জানানো হচ্ছে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিদের সংবর্ধনার পরই মঞ্চজুড়ে সৃষ্টি হয় এক অপূর্ব সাংস্কৃতিক আবহ। গারো সম্প্রদায়ের শিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে, হাতে প্রদীপ নিয়ে পরিবেশন করেন নৃত্য ও সংগীত যেখানে ফুটে ওঠে পাহাড়ি জীবনের ছন্দ, বিশ্বাসের গভীরতা আর শতবর্ষের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। সেই মুহূর্তে ধর্মীয় অনুষ্ঠান যেন রূপ নেয় এক ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক উৎসবে।
আলোচনা সভায় বিভিন্ন বিভাগীয় নেতা, বোর্ড ও সোসাইটির প্রধানগণ অংশ নেন। তাঁরা আত্মিক উন্নয়ন, মণ্ডলীর ঐক্য এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

প্রেসিডেন্ট সুবন্ত রখো বলেন, “এই সম্মেলনের লক্ষ্য কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং আত্মিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ হয়ে সেই আলো সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া।”
পাঁচ দিনের কর্মসূচিতে রয়েছে সম্মিলিত প্রার্থনা ও আরাধনা, ধর্মীয় শ্লোক পাঠ, দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, বিগত বছরের কার্যক্রম ও হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ। আত্মশুদ্ধি ও সংগঠনের অগ্রযাত্রার এক সমন্বিত রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্র হিসেবেই দেখছেন আয়োজকরা এই সম্মেলনকে।

ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার বাইরেও সম্মেলন প্রাঙ্গণ ঘিরে বসেছে বিশাল মেলা। অর্ধশতাধিক স্টলে সাজানো হয়েছে নানান পণ্য ,ঐতিহ্যবাহী আসবাব, রঙিন পোশাক, শিশুদের খেলনা ও সুস্বাদু খাবার। পরিবার-পরিজন নিয়ে আগত দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত জিবিসি মাঠ এলাকা।
সব মিলিয়ে দুর্গাপুর এখন এক অনন্য সমন্বয়ের প্রতীক যেখানে বিশ্বাস মিলেছে সংস্কৃতির সঙ্গে, প্রার্থনা মিলেছে আনন্দের সঙ্গে, আর মানুষ মিলেছে মানুষের সঙ্গে। পাহাড়ের কোলঘেঁষা এই জনপদ যেন নতুন করে ঘোষণা দিচ্ছে ঐক্য ও আত্মিক শক্তিই সমাজের প্রকৃত ভিত্তি।

Leave a Reply