রাজশাহীতে অস্ত্র ও মাদকসহ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ওয়ার্ড সভাপতি আটক

40


বিশেষ প্রতিনিধি :-


রাজশাহীতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদকসহ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি চাঁন সওদাগরকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। শনিবার গভীর রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে তাঁর সহযোগীদেরসহ আটক করা হয়।
পরে আটক ব্যক্তিদের রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) রাজপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।


পুলিশ ও সেনা সূত্র জানায়, আটক চাঁন সওদাগর একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, বিস্ফোরক, অস্ত্র, মাদক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মোট ১৮টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে বেশ কয়েকটিতে চার্জশিটও দাখিল করা হয়েছে।


চাঁন সওদাগর রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার নওদাবিল গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম মো. আবু রউফ মিস্ত্রি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজশাহী মহানগর ও আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, রাজপাড়া, বোয়ালিয়া, শাহ মখদুম ও মতিহার থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় ডাকাতির প্রস্তুতি, চাঁদাবাজি, হত্যাচেষ্টা, পুলিশে হামলা, বিস্ফোরক দ্রব্য বহন ও অবৈধ অস্ত্র রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।


আরএমপি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে—দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারা (হত্যাচেষ্টা), ৩৯৯/৪০২ ধারা (ডাকাতির প্রস্তুতি), অস্ত্র আইন ১৮৭৮, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ১৯০৮, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮, বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯।
একাধিক মামলায় চাঁন সওদাগর এজাহারভুক্ত আসামি ছাড়াও তদন্তে অভিযুক্ত ও চার্জশিটভুক্ত আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।


রাজপাড়া থানার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“চাঁন সওদাগর দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া চলমান। নতুন করে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”


এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নগরীতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

Leave a Reply