এসএম নুর ইসলাম :
খুলনা রূপসা মোঃ অলিউর রহমান গ্রাম খাজাডাঙ্গা থানা রূপসা জেলা খুলনা সংবাদকর্মীকে জানান, আমি ও আমার নানা জমাতুল্লা মোড়ল খাজাডাঙ্গা মৌজার ৬৮ শতক ডিসিআরের জমি ডিসিআর নিয়ে ২০১০ সাল পর্যন্ত খেয়ে আসছিলাম, আমি সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের খুলনা ডিসির পিয়ন আব্দুল ওয়াদুদের নিকট বিশ্বাস করে ডিসিআর কাটার জন্য কাগজ পাত্র জমা দেই, কিন্তু সে ডিসিআর না কেটে বিভিন্নভাবে আমার সাথে প্রতারণা শুরু করে।
পরবর্তীতে আমি জানতে পারি যে, সাবেক ডিসির পিয়ন আব্দুল ওয়াদুদ তার বউয়ের নামে ডিসিআর কেটেছে। তারপর আমি তার কাছে দেওয়া টাকা ও মূল্যবান কাগজপত্র ফেরত চাইলে বিভিন্নভাবে প্রতারণা ও হয়রানি শুরু করে। ২০১৩ সালের দিকে আব্দুল ওয়াদুদের নিকট টাকা ফেরত চাইলে সে বিভিন্নভাবে আমাকে ঘোরাতে থাকে। তখন আমি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এবং মন্ত্রণালয় দরখাস্ত দিলে তার বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কারণ সে স্বৈরশাসক আওয়ামী লীগ এর একজন দোসর এবং ৭ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিল তার শ্যালক। এই ভয়ে আমি কিছু করতে পারেনি।
মোঃ অলিউর রহমান কর্মীদের কাছে সহযোগিতা চাওয়ার পরে অনুসন্ধান টিম ঘেরের নিকট সরেজমিনে গেলে ঘেরের পাশে মোঃ হাসমত উল্লাহ নামে একজন ব্যক্তি বলেন ৫০-৬০ বছর যাবত জমাতুল্লা মোড়ল ভোগ দখল করে খেয়ে আসছিল ডিসিয়ারের মাধ্যমে কিন্তু স্বৈরাশাসক আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরেই জমি ক্ষমতা বল দেখিয়ে সাবেক ডিসির মাধ্যমে ওয়াদুদ তার বউ এর নামে ডিসিআর কেটে নেয়।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে আরো অনেকে বলেন, আওয়ামী লীগ ও সাবেক ডিসির পাওয়ার খাটিয়ে ওয়াদুদ জমিটা দখল করে নেয় এটা শতভাগ সত্য। আর একটা বিষয় উল্লেখ করা যায় যে, বিবাদী দখল করেন যে, ডিসিআর সম্পত্তি কখনো হস্তান্তর করা যায় না, কিন্তু ঘটনা স্থলে বর্তমানে ঘের দখল করে আছেন মিশকাত নামক একজন ব্যক্তি। ঘের হারির মাধ্যমে দীর্ঘ ১০/১২ বছর ভোগ দখল করে খাচ্ছেন মিশকাত।
ভুক্তভোগী এ বিষয়গুলো প্রতিবেদককে বলেন এবং ভিডিও সাক্ষাৎকার দেন। ভুক্তভুগী ন্যায় বিচার পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করেন এলাকার সাধারণ জনগণ।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী খুলনা জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জমিটি যাহাতে ফেরত পায় সেই দাবি করেছেনে ভুক্তভোগী ও ভুক্তভোগীর অসহায় পরিবারের আকুল আবেদন।
এ বিষয়ে সাবেক ডিসির পিয়ন আব্দুল ওয়াদুদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তিনি কোন বুনিয়াদে তার বউয়ের নামে ডিসিয়ার কেটে নিলেন তারপরে শ্যালকের নামে ডিসিয়ার নিলেন এটা মানুষের একটা কৌতুহল থেকে যায় বলে মনে করেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
এ ব্যাপারে রূপসা উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার মোবাইলে কল দিলে মোবাইলটি ধরেননি।