গাজীপুরের বাঘিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় মুখরিত

24

মোঃ রাজীব সিকদারঃ

গাজীপুর মহানগরের অন্তর্গত কোনাবাড়ি থানাধীন ১১নং ওয়ার্ড এ বাঘিয়া উচ্চ বিদ্যালয় নামে একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান। বিদ্যালয়টি ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যাবধি বিদ্যালয়টি অবৈতনিক অর্থাৎ ছাত্রছাত্রীদের নিকট থেকে মাসিক বেতন নেওয়া হয় না। বিদ্যালয়টি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য, অতীতের ন্যায় এবারও সরকারি বিধি মোতাবেক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী বাঘিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচন আগামী ২রা নভেম্বর-২০২৫ইং তারিখ, রোজ রবিবার, সকাল ১০:০০ ঘটিকায় শুরু হয়ে বিকাল ৪:০০ ঘটিকা পর্যন্ত চলবে। নির্বাচন উপলক্ষ্যে এলাকায় জমজমাট প্রচার-প্রচারনা চলছে। জানা যায়, পুরুষ অভিভাবক প্রতিনিধি পদে ৪টি পদের বিপরীতে ৯ জন এবং মহিলা অভিভাবক প্রতিনিধি পদে ১টি পদের বিপরীতে ২জন প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। মোট অভিভাবক ভোটার ৭৮৪ জন। একজন অভিভাবকের একাধিক সন্তান অত্র বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করলেও তার ভোটাধিকার একটিই থাকবে।
দাতা সদস্য পদে ১টি পদের বিপরীতে ১জন এবং শিক্ষক প্রতিনিধি পদে ৩টি পদের বিপরীতে ৩জন প্রার্থী হয়েছেন। অর্থাৎ দাতা সদস্য ও শিক্ষক প্রতিনিধি পদে অতিরিক্ত প্রার্থী না থাকায় উক্ত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় বিজয়ী হয়েছেন বিধায় উক্ত পদগুলোতে নির্বাচন হবে না। শুধুমাত্র অভিভাবক সদস্য পদে নির্বাচন হবে। আরো জানা যায়, অভিভাবক প্রতিনিধি পদে সম্মিলিত অভিভাবক জোটের ব্যানারে “তুরাগ প্যানেল” নামে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেনঃ মুঃ আঃ আউয়াল মোল্লা (ব্যালটের ক্রমিক নং-০১), মোঃ আক্তারুজ্জামান (ব্যালটের ক্রমিক নং-০২), আসলাম হোসেন (ব্যালটের ক্রমিক নং-০৩), মোঃ মতিউর রহমান (ব্যালটের ক্রমিক নং-০৫), মোসাঃ শাহিদা বেগম (ব্যালটের ক্রমিক নং-০২)। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ বাবুল হোসেন ও সাবেক সিনিয়র শিক্ষক মোঃ আইয়ুব আলী সরকার সমর্থিত একটি প্যানেলে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন মোঃ তমছের আলী (ব্যালটের ক্রমিক নং-০৪), মোঃ রহিজ উদ্দীন (ব্যালটের ক্রমিক নং-০৬), মোঃ সাইফুল ইসলাম (ব্যালটের ক্রমিক নং-০৮), মোঃ সেলিম উদ্দীন (ব্যালটের ক্রমিক নং-০৯), জাহানারা বেগম (ব্যালটের ক্রমিক নং-০১), এছাড়া মোঃ সাইদুল ইসলাম মিলন (ব্যালটের ক্রমিক নং-০৭) নামে প্যানেল বহির্ভূত একজন প্রার্থী রয়েছেন। দাতা সদস্য হিসেবে একাধিক প্রার্থী না থাকায় বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় বিজয়ী হয়েছেন মোঃ আলমাছ উদ্দিন মোল্লা, শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় বিজয়ী হয়েছেন মোঃ আরিফুল ইসলাম, চাঁন মিয়া ও সংগীতা বিশ্বাস।

নির্বাচনকে ঘিরে উভয় প্যানেলের সদস্যরা পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন। গত ২১ অক্টোবর “ভোরের আলো” নামের একটি পত্রিকায় তুরাগ প্যানেলের পক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে একটি সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় ২২ অক্টোবর শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকাবাসী তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানায়, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বাবুল হোসেন, যার বিরুদ্ধে ছাত্রীরা যৌন হয়রানীর অভিযোগ করে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির নিকট দরখাস্ত দেন। তাছাড়া অফিস কক্ষে ছাত্রীকে কু প্রস্তাব দেওয়ার একটি অডিও তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। যার ফলে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত করেন। কমিটির তদন্তে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটি তাকে বরখাস্ত করেন । তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের ২৩ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এখনো দুর্নীতি মামলা চলমান রয়েছে। বাবুল মাস্টার বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করে বিশৃঙ্খলা তৈরির উদ্দেশ্যে প্যানেল দেন। তিনি আরো জানান “বর্তমান প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (লিটন) সাহেবকে হেয় পতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে সাবেক প্রধান শিক্ষক বাবুল মাস্টার ও তার সহযোগি আইয়ুব মাস্টার পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করান। যার প্রমাণ তারা পত্রিকার কপি নিয়ে জনগনকে দেখাচ্ছেন এবং নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করছেন। জানা যায় সাবেক প্রধান শিক্ষক বাবুল হোসেন ও সাবেক সিনিয়র শিক্ষক আইয়ুব সরকার বিদ্যালয়ের বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি জনাব মোঃ বাবুল হোসেন সাহেবের নিকট অভিযোগ জানান শিক্ষকবৃন্দ তুরাগ প্যানেলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাচ্ছেন। সভাপতি সাহেব তাদেরকে আশ্বাস দেন যে, উপযুক্ত প্রমাণ দাখিল করলে তিনি দায়ী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিবেন। বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ ফখর উদ্দিন (রকিব) জানান সাবেক প্রধান শিক্ষক বাবুল হোসেন ও সাবেক সিনিয়র শিক্ষক আইয়ুব সরকার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দের বিরুদ্ধে নানান অপপ্রচার চালাচ্ছেন যা খুবই নিন্দনীয়। তারা নির্বাচনী প্রচারনায় অনেক মিথ্যাচার করছেন এবং ভোটারদের অবাস্তব প্রলোভন দেখাচ্ছেন। তিনি আরো জানান, শিক্ষকবৃন্দের বিরুদ্ধে তাদের আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তারা উপযুক্ত প্রার্থী দিতে পারে নাই এবং জনগনের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা নেই, তাই তারা তাদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে আগে-ভাগেই শিক্ষকবৃন্দের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুল তুলছেন। বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক আঃ রহমান জানান, নির্বাচন শিক্ষকরা পরিচালনা করবেন না, নির্বাচন পরিচালনা করবেন জেলা প্রসাশক মহোদয়ের মনোনীত প্রিজাইডিং অফিসার (উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার) ও তার টিম। সুতরাং শিক্ষকদের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই।
নব নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধি মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান, কয়েকজন শিক্ষকের সন্তান অত্র বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে তাই উক্ত শিক্ষকরা অভিভাবক ভোটার। বিধি মোতাবেক উক্ত শিক্ষকগণ অভিভাবক সদস্য পদে প্রার্থী হতে পারবেন না। কিন্তু তাদের যেকোন অভিভাবক সদস্যের পক্ষে প্রচারনায় অংশ নিতে কোন বাধা নেই।
সাইফুল ইসলাম জানান, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে সেগুলো ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
তিনি আরো জানান ,আমরা নির্বাচনের যাবতীয় আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছি। আমি আশাবাদী যে যত অযোক্তিক অভিযোগ করুক না কেন যথাসময়ে সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসবমূখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হবে ইনশাআল্লাহ।

Leave a Reply