ভোলা প্রেস ক্লাব দ্বন্দ্বে রাজনৈতিক নেতাদের কাজ কি: অ্যাবজা

31

নিজস্ব প্রতিবেদক ;-

ভোলা প্রেসক্লাবে রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাজ কি বলে মন্তব্য করে জানতে চেয়েছেন সাংবাদিক সংগঠন সমুহের জাতীয় জোট অ্যালায়েন্স অফ বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অর্গানাইজেশন নেতৃবৃন্দ।

শুক্রবার ২৪ অক্টোবর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জোটের সভাপতি শাহিন বাবু এবং সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতা- কর্মীরা বারবার প্রেস ক্লাবে ঢুকে একের পর এক সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ভাঙচুর এবং নির্যাতন করে তাদেরকে অস্থির করে তুলেছে। ওখানকার সাংবাদিকরা নির্ভীঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। যা পেশার জন্য চরম এবং হুমকি। জোটের নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিক সংগঠনের মাঝে কোনরূপ সমস্যা থাকলে তা পেশার নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকরাই সমাধান করবেন এখানে রাজনৈতিক নেতাদের কাজ কি?

জানাগেছে, ভোলা প্রেসক্লাবে দলীয় লোককে সদস্য না করায় বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসক্লাবের মূল ফটকে তালা মেরেছে জেলা বিএনপি’র কতিপয় নেতৃবৃন্দ। পরে বিকেলে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ওই তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করলে এ নিয়ে উভয় পক্ষের মাঝে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

সাংবাদিকরা তালা ভেঙ্গে ক্লাবে প্রবেশ করলেও পরবর্তীতে জেলা বিএনপির নেতা বাচ্ছু মোল্লা ও এনামুল হকের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের সাথে বসার নামে অপমান ও হুমকি দিয়ে চলে যান। এদিকে ওই রাজনৈতিক দলের লোকজনকে শুক্রবার সকালেও লাঠিসোটা নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

ইতিপূর্বে গত ৫ আগস্ট এর পর এ সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরে ঢুঁকে সদস্য সাংবাদিকদের ওপর নির্বিচারে হামলা এবং তৎপরবর্তী দীর্ঘদিন সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়। এ ঘটনায় প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ চক্রের মূল হোতা এক সাংবাদিককে সংগঠন থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

সম্প্রতি সদস্য-সাংবাদিকদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে একটি নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়। ফলে সদস্যদের মাঝে আনন্দ- উৎসাহ শুরু হয়। এরই মাঝে একটি চক্র সাংবাদিক নন এমন লোকজনকে প্রেসক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে, ফলে এ ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।

প্রেসক্লাব নির্বাচন প্রস্তুত কমিটির সহকারী সমন্বয়ক ওমর ফারুক জানিয়েছেন ১৯৬৬ সালে ঐ ক্লাবটি একটু অরাজনৈতিক সর্বাধিক সংগঠন। সংগঠনটির ঐতিহ্য ধরে রাখতে তিনি ভোলার সর্বশ শ্রেণীর মানুষের সহযোগিতা কামনা করছেন।

ভোলা সিনিয়র সাংবাদিক এটিএন বাংলার প্রতিনিধি আহাদ চৌধুরী তুহিন এটিকে দু:খজনক বলে মন্তব্য করে বলেছেন যারা এটা করেছেন তারা ফ্যাসিস্টদেরও হার মানিয়েছে।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ভোলা জেলা শাখার সভাপতি শিমুল চৌধুরী জানিয়েছেন প্রেসক্লাবের এই সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য সিনিয়র সাংবাদিকরা দায়ী তারা যদি যথাসময়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করত তাহলে রক্তঝরা সহিংস এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।

বাসসের সাংবাদিক আল আমিন শাহরিয়ার বলেন,
ভোলা জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে দুই গ্রুপের ইগু প্রবলেমের বলি হচ্ছেন ভোলার সাংবাদিকরা। তাছাড়া বিএনপির এক গ্রুপের অভিযোগ হচ্ছে-প্রেসক্লাবের নতুন সদস্যভূক্তির তালিকায় সাংবাদিক নয় এমন বেশ কয়েকজন জামায়াত নেতাকে সদস্য করা হয়েছে। যেখানে পেশাদার অন্তত ১৫ জন গণনাধ্যমকর্মীকে বাদ রাখা হয়। সব মিলিয়ে ভোলা প্রেসক্লাবের অবস্থা এখন এইরকম যে, পাটা-পুতায় ঘষাঘষি, মরিচের দফা শেষ…!

নিউজ টুয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য প্রার্থী জাকির হোসেন জানিয়েছেন, মূলত: আমাদের মধ্যে ঐক্যের ঘাটতি আছে। তা না হলে আমরা বিএনপির নিউজ সম্পূর্ণ বর্জন করা উচিত ছিলো। যদিও আমরা বিএনপির চলমান বিভিন্ন প্রোগ্রামের নিউজ তেমন কাভার করি না। এ সকল কারণে সামনের দিকে আরো করবো না ।

সাংবাদিক জোটের পক্ষ থেকে বিএনপি’র রাজনৈতিক দলীয় ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দকে তাদের ভোলা জেলার দলীয় নেতা-কর্মীদের নিভৃত করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া সহিংসতা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply