সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন আব্দুর সালামের বিরুদ্ধে অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ

23

আল আমিন সরদার :-

সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ নিজের বাসায় মদ পান করার পর নারী কর্মচারীকে শ্লীলতাহানী ঘটানো সহ নানা অনিময় দূনীতির অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে।

এঘটনার প্রতিকার চেয়ে গত ১৬মার্চ সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম নিয়মিত মদ্যপানসহ নারীদের কেলেঙ্কারির বিষয়ে অভিযোগ এনে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আম্বিয়া খাতুন। আম্বিয়া খাতুন (৩৮) সাতক্ষীরা শহরের কামালনগর এলাকার মো. আলমগীরের স্ত্রী। তিনি সিভিল সার্জন সাতক্ষীরা অফিসের আউট সোর্সিং কর্মচারী।

ভুক্তভোগী আম্বিয়া খাতুন জানান, ৮ বছর পূর্বে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে সিভিল সার্জন অফিসে আয়া হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি । বিগত ৬ মাস পূর্বে সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালামের বাসায় কাজের আয়া হিসাবে রবিউল ইসলামের স্ত্রী রেকসোনা খাতুন দায়িত্ব পালন করত। এর পর তাকে সিভিল সার্জন শ্যামনগর বদলি করিয়া দেন। তাকে বদলি করে দিয়ে সিভিল সার্জন অফিস থেকে তার বাসায় রান্না করার কাজসহ ঘরের সমস্ত কাজ করতে আদেশ দেন তাকে। গত ৬ মাস সিভিল সার্জনের বাস ভবনে রান্নাসহ যাবতীয় কাজ করতেন তিনি । কিন্তু প্রতিনিয়ত সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম তাকে বোরকা ও হিজাব খুলে তার বাসায় কাজ করতে বলে এবং খারাপ ইঙ্গিত সূচক ভাবে তার সঙ্গে রাত কাটাতে বলে সম্প্রতি । তার এই প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় একদিন ঘরে ডেকে জোরপূর্বক দরজা আটকিয়ে তার শ্লীলতাহানী ঘটায় সিভিল সার্জন । এরপর কান্না করতে করতে বাসা থেকে বের হয়ে এসে ঘটনাটি তার পরিবারের সদস্যদের খুলে বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে এসব ঘটনা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বরাবর ১৬মার্চ লিখিত অভিযোগ করেছিলেন তিনি। কিন্তু অভিযোগ করার তিনদিন পর গত ১৯ মার্চ সিভিল সার্জন অফিসের ডা. জয়ন্ত কুমার স্যার তাকে ডেকে এনে অভিযোগ প্রত্যাহার করেন মর্মে সাদা কাগজে ২ লাইনে লিখে তার স্বাক্ষর নেন।

তিনি আরো জানান,, সিভিল সার্জনের বাসায় পূর্বে আয়া হিসেবে ১০ থেকে ১২ বছর কাজ করতেন রেকসোনা খাতুন।কয়েকমাস আগে তাকে শ্যামনগর বদলি করেন।

নার্স রেকসোনা খাতুন জানান,কর্মজীবনে ৫ থেকে ৬টি সিভিল সার্জন পার করেছি। সিভিল সার্জনের বাসায় রান্নাসহ যাবতীয় কাজ করেছি। সেই সব সিভিল সার্জন কত সম্মানী মানুষ ছিলেন আর বর্তমান সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম তাকে খারাপ কাজ করার ইশারায় ইঙ্গিত কুপ্রস্তাব দিত। তার কুপ্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় তাকে শ্যামনগর বদলি করে দিয়ে আম্বিয়াকে বাসায় কাজের জন্য নেয়। শুনেছি তার সঙ্গেও মারাত্মক অপরাধ করেছেন যা মুখে বলা বলা যাবে না। বর্তমান এই নারীলোভী সিভিল সার্জন মতন ইতোপূর্বে এমন অসৎ অফিসার কখনও দেখিনি। এই নারীলোভী সিভিল সার্জনের বিচার দাবি করেন তিনি।

এদিকে নাম না জানিয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের এক ডাক্তার জানান, সিভিল সার্জনের পরিবার বাইরে থাকেন।সেই সুযোগে সিভিল সার্জন প্রতি নিয়ত মদ পান করে অফিসে বসে থাকেন। এর আগে তার বাসায় দুই নারী কর্মচারী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বর্তমানে ডাক্তার সুমনা সরকারকে নিয়ে প্রায় অফিসে বসে থাকেন। তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে এমন গুজ্ঞন শোনা যায় অফিস পাড়ায়। প্রায় তার নিরিবলি সময় কাটান বলেন তিনি।

ক্লিনিক মালিক পুলক, বিধান, সাফায়ত, সহ অনেকে বলেন, সিভিল সার্জন জেলার প্রতিক্লিনিক থেকে মাসে ১০থেকে ২০হাজার টাকা ঘুষ নেন। এসব ক্লিনিকে কোন অনুমোধন নেই। তিনি কোন ব্যাবস্তা না নিয়ে টাকা নিয়ে বসে থাকেন। এসব কাজে টাকার লেনদেন করেন ডা জয়ন্ত সরকার। তার বর্তমানে টাকা চাঁদাবাজিতে এলাকার লোক অতিষ্ঠ। আমরা তার বদলী চাই।

অভিযোগ অস্বীকার করে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, আমি আপনার নামে মামলা করব। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না।

Leave a Reply