এস এম নূর
বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার হলতা ডৌয়াতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আহবায়ক কমিটিতে সভাপতির নাম প্রস্তাব না করায় অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক কালাম হোসেন তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, হলতা ডৌয়াতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টির পড়াশোনার মান উপজেলার অন্যান্য বিদ্যালয়ের তুলনায় আলাদা। বরাবরের মতোই এই বিদ্যালয়টির রেজাল্টের দিক দিয়ে প্রদান স্থানে রয়েছে। পূর্বে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কখনোই কোন রাজনৈতিক প্রভাব আমরা দেখিনি। দীর্ঘদিন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হাসান খান। মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং হলতা ডৌয়াতলা ওয়াজেদ আলী খান ডিগ্রী কলেজ প্রতিষ্ঠান দুটি শুরু লগ্ন থেকেই অনেকটা সুনামেন সাথে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, সম্প্রতি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিতে প্রস্তাবিত সভাপতির নামের একটি তালিকা বোর্ডে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এরমধ্যে গত ২২ জানুয়ারি সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় যুবদল নেতা রায়হান নাজির ধলু’সহ তার সাথে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন উশৃঙ্খল লোকজন
নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। এবং রায়হান নাজির ধলুকে অত্র বিদ্যালয়টির সভাপতি করার জন্য দাবী করেন। এসময় তাকে সভাপতি বানাবো এই মর্মে আমাকে মোসলেকা দিতে বলেন রায়হান নাজির ধলু। আমি তার ব্যবহার এবং আচারণে অসন্তুষ্ট হলে তিনি আমাকে কুরুপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এবং আমি তাকে শান্ত হয়ে বার বার বসতে বললেও তিনি বসেননি। একই সময় তিনি একাধিক নেতাকর্মীকে ফোন দিয় আমাকে ফোরমটা রেখে মোসলেকা দেওয়ার জন্য
বলে। বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বানানোর দায়িত্ব বা অধিকার প্রধান শিক্ষক হিসেবে আমার নেই। বরং আমরা কি নামের তালিকা শুধুমাত্র বোর্ডে প্রেরণ করতে পারি। এবং বোর্ড নির্ধারণ করবে কে বিদ্যালয়ের সভাপতি হবে। এখানে সভাপতি বানানোর বিষয়ে আমার কিছুই করার নেই।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে আমি আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছি। এবং এবিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক মহোদয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ পত্র দায়ের করা হয়েছে। এবং থানা অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি প্রশাসন খুব গুরুত্ব সহকারে দেখবে এমনটাই আশা করেন তিনি। এবং খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এর একটা প্রতিকার দাবি করেন প্রধান শিক্ষক।
এবিষয়ে বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হারুন অর রশিদ জানান, এবিষয়ে আমাদের কাছে এখনো লিখিত কোন অভিযোগ আসেনি। তবে আমরা লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নিব।