উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সদস্য কাইয়ুম মাহমুদ এখনো বেপোয়ারা

33


গলাচিপা পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ

তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ।
গলাচিপা(পটুয়াখালী) সংবাদদাতা: :
গলাচিপার ভূমিদস্যূ ও উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সদস্য কাইয়ুম মাহমুদ সরকারী খালের পাড় দখল করে বিশাল অট্টালিকা তৈরি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও পৌরসভার মধ্যে কলেজ শিক্ষকের জমি দখলের পায়তারা চালাচ্ছে।

এ ব্যাপারে রবিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট ভূমিদস্যু কাইয়ুমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগিরা। জানা গেছে, গলাচিপা সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের আ.কাদের মৃধার ৩য় পুত্র কাইয়ুম মাহমুদ। তার পৌর শহরের মোবাইল ফোন কেনা বেচার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলের সময় ক্ষমতার দাপটে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া গ্রামে ধোপার খালের পশ্চিম পাশে সরকারি খালের জায়গা ভরাট করে বিশাল অট্টালিকা তৈরি করে। উত্তর চরখালী গ্রামে তিন কড়া জমি ক্রয় করে ১০কড়া জমি ভোগ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নানা অভিযোগ ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বাবাকে মানসিক ভাবে নির্যাতন করত বলে কাউয়ুমের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকায় উপজেলা আওয়ামীলীগের এক নেতা তা মিমাংসা করার জন্য তার দোকান বন্ধ করে দেয়।

পরে ওই নেতাকে ম্যানেজ করে দোকান খোলার ব্যবস্থা করে। তৎকালিন সময় একটা আলোচিত ঘটনা তারই ভাই আলামিন মৃধার স্ত্রী ফাহিমার সাথে তার পারিবারিক দ্বন্দ্ব থাকায় ফাহিমার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় এতে ফাহিমার মৃত্যু ঘটে। এহেন ঘটনার সাথে তারা সব সময় জড়িত থাকে বলে জানা গেছে। যে দল ক্ষমতায় আসে কাইয়ুম সেই দলে যোগ দিয়ে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে।
জানা গেছে, গলাচিপা মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও সাংবাদিক হারুন অর রশিদ গং ১৯৮১ সালে গলাচিপা পৌর শহরের নজরুল প্যাদা গং তাদের কাছ থেকে ৪টি দাগে ৪৮.৫ শতাংশ জমি ক্রয় করে এবং তা সরেজমিনে বুঝিয়ে দেন।

৩.৫ শতাংশ বাদ দিয়ে তাদের নামে ৪৫ শতাংশ রেকর্ড হয়। হারুন অর রশিদ গং ৪৩ বছর দখলে থাকার পর ওই নজরুল প্যাদা ২০২৪ সালের ২৮জানুয়ারী কাউয়ুম মাহমুদের কাছে দ্বিতীয় বার ৬ দাগ দিয়ে ৬শতাংশ বিক্রি করে। এতে জটিলতা সৃষ্টি হলে হারুন অর রশিদ ২০২৫ সালে ৪জুন পটুয়াখালী পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত আবেদন করলে গলাচিপা থানা অফিসার ইনচার্জকে মিমাংসার দায়িত্ব দেন। আওয়ামীলীগ সরকার পালিয়ে যাবার পর গুটি কয়েক বিএনপির নেতাকে টাকা পয়সা দিয়ে থানা পুলিশের চোখ ফাকি দিয়ে রাতের আধারে অমিমাংসিত ওই জায়গায় কাইযুম ঘর তোলার চেষ্টা চালায়। একাধিক বার সালিস বৈঠকে বসলে সালিশরা বারবার কাউয়ুমকে আদালতের মাধ্যমে রেকর্ড সংশোধন করে আসতে হবে বলে জানায়।

সে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা না রেখে আদালতে রায়ের কপি না নিয়ে দখল করার চেষ্টা চালায়। এদিকে জমির প্রকৃত মালিক হারুন অর রশিদ গংকে ভয় ভীতি এমন কি প্রকাশ্যে মৃত্যুর হুমকি দেয় এতে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। আবারও গত বছরের ২৯ডিসেম্বর ওই জায়গায় দলবল নিয়ে ভূমিদস্যু কাইয়ুম বেড়া দিতে গেলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় হারুন অর রশিদের ভাইর ছেলে ও ভাইজির মাথা ফাটিয়ে দেয়। প্রত্যেকের মাথায় ৮টি করে সেলাই লাগে।

এ ব্যাপারে কাউয়ুম বলেন, আমার সুনাম নষ্ট করার জন্য এ সব বদনাম ছড়াচ্ছে। আমি জায়গা ক্রয় করেছি। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন জানায়, যারাই সরকারী খাল ভরাট করে অবৈধ ভাবে দখল করবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলেই ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সরকারী জায়গা দখল মুক্ত করা হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, কলেজ শিক্ষকের জমি সংক্রান্ত অভিযোগ পেলে উভয় পক্ষকে ডেকে শুনানী করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

Leave a Reply