নদী-খাল দখলমুক্তে বাধা দিলে কঠোর ব্যবস্থা: ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

21

সৈয়দ সময়, নেত্রকোনা :

নদী ও খাল দখলমুক্ত এবং পুনঃখনন কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা সহ্য করা হবে না—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “নদী-খাল উদ্ধার কার্যক্রমে কেউ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে সরকার তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে।”

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে নেত্রকোনা জেলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল ও ভরাটের কারণে দেশের বহু নদী ও খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। এতে কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই বাস্তবতায় সরকার পরিকল্পিত উদ্যোগে নদী-খাল পুনঃখনন ও দখলমুক্ত কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে নদী ও খাল শাসনের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি এবং ‘জাল যার, জলা তার’ নীতির প্রতিশ্রুতি ছিল। জনগণ সেই অঙ্গীকারের ভিত্তিতেই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে। তাই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোনো আপস করা হবে না।
মাদকবিরোধী অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী দেশকে মাদকমুক্ত করতে দিনরাত কাজ করছে।

এর আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন তিনি, যা পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্টরা।

সফরের অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক, নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী, নেত্রকোনা-৪ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফা, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান ও জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

নদী-খাল রক্ষায় সরকারের এই দৃঢ় অবস্থান স্থানীয় জনগণের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply