নেত্রকোণার গর্ব: ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

34

সৈয়দ সময় সারোয়ার , নেত্রকোনা :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের পর এবার সরাসরি মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর–কলমাকান্দা) আসনের নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাঁকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে শপথ নিলেন।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রকাশিত প্রতিমন্ত্রীদের খসড়া তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সামনে আসে। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তাঁকে শপথ গ্রহণের জন্য টেলিফোনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার এই সিদ্ধান্তকে নেত্রকোনাবাসী দেখছেন এক ‘ঐতিহাসিক প্রাপ্তি’ হিসেবে।

নির্বাচনী বিজয় থেকে মন্ত্রিসভা দ্রুত উত্থান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল। নির্বাচনে তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী গোলাম রব্বানীর চেয়ে ৭০ হাজার ৮৯৫ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হন। বিশাল এই ব্যবধান শুধু রাজনৈতিক শক্তিমত্তাই নয়, স্থানীয় জনগণের আস্থারও প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

নবগঠিত বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইন ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তাঁকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
“মূল্যায়নের প্রতিদান দিতে চাই কাজে”
মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির খবর নিশ্চিত করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন,
“আলহামদুলিল্লাহ, সকালে ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ফোন পেয়েছি। দল আমাকে যেভাবে মূল্যায়ন করেছে, তার প্রতিদান আমি কাজের মাধ্যমেই দিতে চাই। সবার কাছে দোয়া চাই আমি যেন আমার দেওয়া কথা রাখতে পারি।”

তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে কাজ করবেন।

এলাকায় আনন্দের জোয়ার
প্রতিমন্ত্রী হওয়ার খবরে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দায় আনন্দের বন্যা বইছে। শপথের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয় নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল বের করেন। বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও সফলতা কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় এক প্রবীণ শিক্ষক বলেন, “নেত্রকোনা দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামো ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় নানা জটিলতার মুখোমুখি। আমাদের প্রত্যাশা, এবার বাস্তব পরিবর্তন আসবে।”

ভূমি মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের অন্যতম সংবেদনশীল ও জনসম্পৃক্ত দপ্তর। ভূমি রেকর্ড ডিজিটালাইজেশন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এসবই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন প্রতিমন্ত্রীর সামনে তাই প্রত্যাশা যেমন উঁচু, দায়িত্বও তেমনি ব্যাপক।

নেত্রকোনার রাজনৈতিক ইতিহাসে এই অন্তর্ভুক্তি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকেরা। এখন দেখার বিষয় প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার এই সমীকরণ বাস্তবায়নে কতটা সফল হন নব-নিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী।

Leave a Reply