বন্দোবস্তের জমি কি দখলের মুখে? মোহনগঞ্জে ভূমিহীনদের আর্তনাদ, প্রশাসনের দ্বিমত

19

সৈয়দ সময় , নেত্রকোনা :

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় ২০০৭ সালে প্রশাসনের দেওয়া বন্দোবস্তের খাস জমি দখলের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় এলাকা। প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী ভূমিহীন পরিবারগুলো জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাঘান-সিয়াধার ইউনিয়নের গলগলি মল্লিকপুর মৌজায় সাড়ে তিন একর খাস জমি ২০০৭ সালে রতিখালি গ্রামের কয়েকটি ভূমিহীন পরিবারকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। শাহিন মিয়া, আঙ্গুর মিয়া, এরশাদ, রয়েল, জুয়েল, আবুল মিয়া ও হাজেরা বেগমসহ এসব পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে কৃষিকাজ ও মৎস্য চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন কোনো বিরোধ না থাকলেও সম্প্রতি স্থানীয় প্রভাবশালীদের একটি চক্র জমিটি দখলের চেষ্টা শুরু করেছে। অভিযোগে বলা হয়, গত ১ জানুয়ারি কয়েকজন প্রভাবশালী লোকজন নিয়ে জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে ফাঁকা গুলিবর্ষণ, মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। পরে আদালতে মামলা দায়ের করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


ভূমিহীন পরিবারগুলোর অভিযোগ, প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের জমিকে ‘গো-চারণভূমি’ হিসেবে চিহ্নিত করে সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে, যাতে দখল উচ্ছেদের প্রক্রিয়াকে পাকাপোক্ত করা যায়। তারা বলছেন, স্থানীয় মাদক কারবারিদের আস্তানা গড়ার চেষ্টা ঠেকাতে গিয়ে তারা প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়েছেন। সাম্প্রদায়িক ইস্যু উসকে দিয়ে তাদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ।


অন্যদিকে, মোহনগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদের জানান, কিছু লোক গো-চারণভূমি দখল করে বেড়া দিয়ে নিজেদের মতো ব্যবহার করছিল। তাই সেগুলো উচ্ছেদ করে ব্যানার টানানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ভূমিহীনদের বন্দোবস্তকৃত জমি আলাদা জায়গায় রয়েছে এবং সেটি অক্ষত আছে।
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন ভূমিহীন পরিবারগুলো। তাদের একটাই প্রশ্ন ২০০৭ সালে পাওয়া জমি কি শেষ পর্যন্ত হারাতে হবে?

Leave a Reply