হঠাৎ ৩০ ইউনিট থেকে ৬০০ ইউনিট! হতদরিদ্র গ্রাহকের ঘাড়ে ১৫ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল

30

তাইবুর রহমান চরফ্যাশন (ভোলা) :-


ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অন্তর্ভুক্ত চরফ্যাশন জোনাল অফিসের আওতাধীন এক হতদরিদ্র গ্রাহকের ঘাড়ে হঠাৎ করেই চাপানো হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকার অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল। দীর্ঘ তিন বছর ধরে যার মাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহার ছিল মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ইউনিট, সেই গ্রাহকের নামে এখন এক লাফে বিল দেখানো হয়েছে ৪০০ থেকে ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত।

অভিযোগ উঠেছে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কিছু কর্মচারীর গাফিলতি ও অনিয়মের কারণেই সাধারণ গ্রাহকেরা এ ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. কবির, পিতা আব্দুল খালেক, ঠিকানা আসলামপুর। তার বিদ্যুৎ হিসাব নং ৮৭৫/২২০৬। জানা গেছে, তার ঘরে মাত্র একটি ছোট ফ্যান ও একটি লাইট ব্যবহৃত হয়—যা গত তিন বছর ধরেই অপরিবর্তিত। এতদিন তার মাসিক বিল আসত ১৭০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে।

কিন্তু চলতি বছরের জুন, জুলাই, আগস্ট, ও অক্টোবর মাসে একের পর এক বিল আসে ৪০০, ৫০০, ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত—যার মোট পরিমাণ দাঁড়ায় অনুমান ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

ভুক্তভোগী কবির বিষয়টি স্থানীয় সংবাদকর্মীসহ সরাসরি চরফ্যাশন জোনাল অফিসে অভিযোগ করলেও অফিস কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, চরফ্যাশন জোনাল অফিসে বিল জালিয়াতি ও হিসাবের অনিয়ম এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা। অসহায় গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বিল আদায় ও হয়রানি বন্ধে কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

অভিযোগের বিষয়ে চরফ্যাশন জোনাল অফিসের কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, “একজন দরিদ্র গ্রাহকের মাসিক আয় যেখানে ১০ হাজার টাকাও নয়, সেখানে তার ঘাড়ে ১৫ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল চাপানো চরম অমানবিকতা।”

তারা দ্রুত তদন্ত করে অতিরিক্ত বিল প্রত্যাহার ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply