
জুলফিকার আলী জুয়েলঃ
পরনে এখনও লাল শাড়ি। এ শাড়িতেই হয়েছে বিয়ে। হাতে মেহেদির লাল টকটকে দাগ। বিয়ের আনন্দ মূহুর্তে পরিণত হয়েছে বিষাদে। স্বজনদের কান্নায় ভারী খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বর। সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে গেছে ১৩ টি প্রাণ।
বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় কয়রার মেয়ে মিতু আক্তারের সঙ্গে মোংলার যুবক সাব্বিরের বিয়ে হয়। সারাদিনের আয়োজন, আত্মীয়-স্বজনের ভিড়, হাসি-আনন্দ আর নতুন সংসারের স্বপ্নে ভরে উঠেছিল পুরো বাড়ি। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরপক্ষের সদস্যরা রাতটিও কাটান কনের বাড়িতেই। কেউ জানতো না, এই আনন্দের রাতের পরই অপেক্ষা করছে এমন নির্মম পরিণতি।
বৃহস্পতিবার সকালে বিয়ের সাজে, স্বপ্নভরা চোখে,নব জীবনের সূচনায় বরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন একটি মাইক্রোবাসে। একই গাড়িতে ছিলেন তার বোন লামিয়া ও দাদি রাশিদাসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য। কিন্তু নিয়তি যেন ওত পেতে ছিল পথেই।বাগেরহাট রামপালের বেলাইব্রিজ নামক স্থানে পৌঁছালে নৌবাহিনীর একটি বাসের সাথে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি এ সংঘর্ষ হয়।মাইক্রোবাসে বর পরিবারের ১১, কনে পরিবারের ৩ জন ও ড্রাইভারসহ ১৫ জন যাত্রী ছিল।বর পরিবারের ৯ জন, কনে পরিবারের ৩ জন ও ড্রাইভারসহ মোট ১৩ জন নিহত হন।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বর সাব্বিরসহ নববধূ মিতু আক্তার, তার বোন লামিয়া ও দাদি রাশিদা, নানী আনোয়ারাসহ মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে দুর্ঘটনার পরপরই একের পর এক লাশ ঢোকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। নবদম্পতিসহ একে একে লাশগুলো আনা হয় সেখানে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে পড়ে কয়রার আমাদি ইউনিয়ন।প্রতিবেশীরা বলছেন, সকালেও যে মেয়ে বিয়ের সাজে বিদায় নিয়েছিল, বিকেলের মধ্যেই তার মৃত্যুর খবর শুনে কেউ যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না।বিয়ের সানাই বাজা বাড়িতে এখন কান্নার রোল।মুহূর্তেই বিষাদের সাগরে ডুবে গেল দুটি পরিবার। পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বাড়ি নং-৬৬, সোনারগাঁ জনপথ রোড, সেক্টর -১১, উত্তরা ঢাকা-১২৩০
মোবাইল নং: ০১৯৮৫২৩১১১২
Copyright © 2026 টপ নিউজ প্রতিদিন | বাংলা নিউজ পেপার. All rights reserved.