সৈয়দ সময়, নেত্রকোনা :
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার ইয়ারপুর গ্রামের এক ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটল অবশেষে। দীর্ঘ ১৭ বছর খালি পায়ে পথচলার পর জুতা পরলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা সুরুজ পাঠান। দলীয় বিজয়ের সঙ্গে মিলেই পূর্ণ হলো তার বহুদিনের প্রতিজ্ঞা।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনটিই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ভোটকেন্দ্রে প্রতিপক্ষের কটূক্তি ও অপমানজনক আচরণের শিকার হন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, সেদিন তাকে কেন্দ্র থেকে অপমান করে বের করে দেওয়া হয়। অপমানের ক্ষণেই তিনি পায়ে থাকা জুতা খুলে ফেলেন এবং শপথ নেন দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না ফেরা পর্যন্ত আর কখনো জুতা পরবেন না।
এরপর কেটে গেছে দেড় দশকেরও বেশি সময়।
প্রখর রোদ, বর্ষার কাদা, কাঁকর-বালির পথ সবই পেরিয়েছেন খালি পায়ে। রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল-সমাবেশ কিংবা সংগঠনের কাজে গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটে বেড়িয়েছেন নিরলসভাবে। পরিবার ও প্রতিবেশীদের অসংখ্য অনুরোধও তাকে সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেনি। শপথে ছিলেন অবিচল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পর ইয়ারপুর ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাসের আবহ। সেই আনন্দঘন মুহূর্তেই ১৮ ফেব্রুয়ারি কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে স্থানীয় নেতাকর্মীরা সুরুজ পাঠানের বাড়িতে যান। আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন জুতা পরিয়ে দিয়ে তারা তার দীর্ঘ শপথ ভঙ্গের সাক্ষী হন। করতালি ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বাড়ির উঠোন।
বর্তমানে ইয়ারপুর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সুরুজ পাঠান জুতা পায়ে দিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “২০০৮ সালে আমাকে অপমান করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। সেদিনই জুতা ফেলে প্রতিজ্ঞা করি দল না জেতা পর্যন্ত আর জুতা পরব না। আজ সেই শপথ পূরণ হয়েছে। মনে হচ্ছে, শুধু পায়ে জুতা নয় মাথাও উঁচু হয়েছে।”
কলমাকান্দার রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনাটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। অনেকের কাছে এটি কেবল এক ব্যক্তির জুতা পরার গল্প নয়, বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যবসায় ও বিশ্বাসের এক প্রতীকী পরিণতি।
বাড়ি নং-৬৬, সোনারগাঁ জনপথ রোড, সেক্টর -১১, উত্তরা ঢাকা-১২৩০
মোবাইল নং: ০১৯৮৫২৩১১১২
Copyright © 2026 টপ নিউজ প্রতিদিন | বাংলা নিউজ পেপার. All rights reserved.