
নিজস্ব প্রতিনিধি :-
চাকরি দেওয়ার নামে ডিজিটাল প্লাটফর্মে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে উত্তরার শাকিল ও নাঈম বাসা তের রোড দুই সেক্টর চার সিকিউরিটি সার্ভিস নামক প্রতিষ্ঠানটি। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গুরুত্বপূর্ণ পদে জনবলের জন্য আকর্ষণীয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিতো। আগ্রহীরা টাকার বিনিময়ে যোগ দেওয়ার পর জানতে পারেন বেতন নয়, নতুন চাকরিপ্রত্যাশীকে এনে কমিশন আদায় করতে হবে। সেটাই তার বেতন।
এভাবে দুই থেকে আড়াই হাজার চাকরি প্রত্যাশীর কাছ থেকে এই অভিনব প্রতারণায় অর্ধকোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। এই চক্রের কবলে পরে টাকা খুইয়ে অবশেষে থানায় অভিযোগ করেছে চাকরি প্রার্থী কয়েকজন ভুক্তভোগী যুবক।
সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মুলহোতা শাকিল ও নাঈম উত্তরার একটি ভবনের নিচতলায় তলায় ফ্লাট ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ডিজিটাল প্লাটফর্মে চাকরি দেওয়ার নামে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আসছে। তাদের কোম্পানিতে ম্যানেজার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার, সিকিউরিটি গার্ড এবং তাদের অধীনে বিভিন্ন অফিস, ব্যাংক, এটিএম বুথ, থ্রি স্টার অ্যাপার্টমেন্ট, কল সেন্টার, গার্মেন্টস-টেক্সটাইল, মিল-ফ্যাক্টরি, বিদ্যুৎ পাওয়ার প্লান্ট, মেট্রোরেল হেড অফিস, চায়না প্রজেক্টসহ আরো কিছু জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক প্রতিষ্ঠানের লাভজনক পদে কিছু কর্মচারী নিয়োগের জন্য তাদের ফেসবুক পেজে বিজ্ঞাপন দিতো।
একজন ভুক্তভোগী নাম প্রকাশে অনিচ্ছু(২০) বাড়ি পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার উত্তর ভবানীপুর গ্রামে। অসচ্ছল পরিবারের হাল ধরতে লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি কাজের চেষ্টা করছিলেন তিনি। ওই সময় ফেসবুকের একটি পেইজে চোখ পড়ে ঢাকার উত্তরার সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড’ নামের প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে। ওই বিজ্ঞাপনে বলা হয়, সিকিউরিটি গার্ড, সহকারী সুপারভাইজার, কল সেন্টারে ছেলে মেয়ে আকর্ষণীয় বেতনে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।
নিয়োগপ্রক্রিয়া জানতে বিজ্ঞাপনে দেয়া ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে বলা হয়, লেখাপড়ার পাশাপাশি এই চাকরি করা যাবে। প্রলোভনে পড়ে ওই চাকরিতে যোগ দিতে আগ্রহী হন।
পরে কল সেন্টারে চাকরির জন্য আবেদন করতে আসলে প্রথমেই ফ্রমের জন্য ছয়শ’ টাকা নিয়ে ম্যানেজি ডিরেক্টর সাকিল এর কাছে ইন্টাভিউয়ের জন্য পাঠায়। সে কল সেন্টারে চাকরির জন্য ১৫ হাজার টাকা দিতে বলে। ১০ হাজার টাকা দেয়। চাকরিতে যোগদানের জন্য ওই অফিসে গেলে তার কাছে আরো ৫ হাজার টাকা দাবি করে প্রতারক শাকিল ও নাইম প্রতারণার বিষয় বুঝতে পেরে টাকা ফেরত চাইলে নায়িম একটি ফর্ম ধরিয়ে দিয়ে বলে স্বাক্ষর করে চলে যাও। যেখানে লেখা রয়েছে টাকা ফেরত নিব না ইহাকে কোম্পানী কোনো দায়ী না। এর প্রতিবাদ করলে তাকে মারধরও করে উত্তরা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি প্রদান করে প্রতারক ও তার সহযোগীরা।
একই ভাবে প্রই প্রতারক চক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছে ভুক্তভোগী সহ অসংখ্য জোবক যুবতী। অনেকে আবার প্রতারক চক্রটির ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। তাদেরকে ট্রেনিংএর নাম করে ওই ফ্লাটের একটি কক্ষে আটকে রাখে। ঠিকমতো তাদের খাবারও দেয় না অভিযোগ করে বলেন।
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মো. হুমায়ুন আজাদ (১৮) বলেন, ফেসবুকে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে উত্তরার সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানে গত মাসে আসি। প্রথমে ৬০০ টাকায় রেজিস্ট্রেশন করি। মার্কেটিং এ চাকরি দেয়ার কথা বলে ১৫ হাজার টাকা দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি। বহু কষ্টে ১১ হাজার টাকা তুলে দেই প্রতিষ্ঠানটির এমডি হাতে। পরে আমি এলাকার আরও দুই জনকে চাকরিতে এনে দেই। কিন্তু তারা প্রতারণা ও নির্যাতনের বিষয় বুঝতে পেরে কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে ওই দুইজন আমাকে সবকিছু খুলে বলতে এই প্রতিষ্ঠানে প্রতারণার সবকিছু জানতে পারি এবং দেখতে পাই। তখন এর প্রতিবাদ করলে এবং টাকা ফেরত চাইলে আমাকে রুমে আটকিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে চক্রটি।
এভাবে অভিযুক্তরা গত এক বছরে দুই থেকে আড়াই হাজার চাকরি প্রত্যাশীর কাছ থেকে কোম্পানির নিয়োগ ফরম পূরণ করে হাতিয়ে নিয়েছে অর্ধ কোটি টাকার বেশি। চাকরির প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া কয়েকজন মিলে প্রতারকদের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) সিকিউরিটি সার্ভিসের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়েজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
চাকরী প্রার্থীদের সাথে প্রতারণার বিষয়ে জানতে সিকিউরিটি সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচলাক সাকিল মুঠফোনে ও হোয়াটঅ্যাপে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে তার সহযোগী