সৈয়দ সময় ,নেত্রকোনা:
বাংলার লোকসংগীতের আকাশে আরেকটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন ঘটল। প্রখ্যাত বাউল শিল্পী ও সংগীত সাধক সুনীল কর্মকার আর নেই। শুক্রবার (৬
২০২৬) ভোর সাড়ে ৪টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিউমোনিয়াসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন এই গুণী শিল্পী। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র এবং অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী রেখে গেছেন। তাঁর প্রয়াণে বাউল ও লোকসংগীত অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার বান্দনাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুনীল কর্মকার। মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই বাউল গানের সঙ্গে তাঁর পথচলা শুরু। আবেগময় ও দরদভরা কণ্ঠে অল্প সময়েই তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন লোকসংগীতের এক অনন্য সাধক হিসেবে। আট বছর বয়সে টাইফয়েড জ্বরে দৃষ্টিশক্তি হারালেও সংগীতের আলো কখনো নিভতে দেননি তিনি।
দৃষ্টিহীন হয়েও দোতারা, বেহালা, তবলা ও হারমোনিয়ামসহ নানা বাদ্যযন্ত্রে অসাধারণ পারদর্শিতা অর্জন করেন সুনীল কর্মকার। উপমহাদেশের প্রখ্যাত বাউল সাধক উস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর অনুপ্রেরণায় সংগীত সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন তিনি। দীর্ঘ সংগীত জীবনে তিনি প্রায় ১৫০ থেকে ২০০টি গান রচনা করেন, যা বাংলার লোকসংগীত ভাণ্ডারকে করেছে আরও সমৃদ্ধ।
লোকসংগীতে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পকলা পদকে ভূষিত হন এই গুণী শিল্পী।
সুনীল কর্মকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং লোকসংগীতে তাঁর অসামান্য অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
শরীরের চোখ নিভে গেলেও সুনীল কর্মকারের গান, সাধনা ও দর্শন বেঁচে থাকবে বাংলার লোকসংগীতের চিরন্তন ধারায়।
বাড়ি নং-৬৬, সোনারগাঁ জনপথ রোড, সেক্টর -১১, উত্তরা ঢাকা-১২৩০
মোবাইল নং: ০১৯৮৫২৩১১১২
Copyright © 2026 টপ নিউজ প্রতিদিন | বাংলা নিউজ পেপার. All rights reserved.