
জুলফিকার আলী জুয়েলঃ
কাশিমপুরে শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে শুরু হয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবগুলোর একটি এই দুর্গাপূজা। প্রতিবছরই পূজাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে বিরাজ করে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের এক অনন্য আবহ, আর এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।
ষষ্ঠীর দিনে চণ্ডীপাঠ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও মূল আকর্ষণ থাকে প্রতিমা দর্শন। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ঢল নামে নানা পূজামণ্ডপে। নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণরা নতুন পোশাকে, আনন্দমুখর পরিবেশে প্রতিমা দর্শনে আসেন।
বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই মহোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। তবে বিসর্জনের মুহূর্তে ভক্তদের মনে আনন্দের পাশাপাশি থাকে গভীর বেদনা— বিদায় নিতে হয় মহামায়াকে।
কাশিমপুরে রয়েছে অসংখ্য পূজামণ্ডপ। এর মধ্যে টানবাজার সার্বজনীন পূজা কমিটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তারা প্রতিবছরই ব্যতিক্রমধর্মী ও আকর্ষণীয় প্রতিমা ও মণ্ডপ নির্মাণের মাধ্যমে ভক্তদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। এ বছরও সেরা মণ্ডপ তৈরির লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন আয়োজকরা।
উৎসবকে ঘিরে সারা নগরীতেই বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের আমেজ। পূজামণ্ডপগুলো রঙিন আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, চারপাশের এলাকাগুলোতেও চলছে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান— যেমন ধুনুচি নৃত্য, গান ও নাট্য পরিবেশনা।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা ও স্বেচ্ছাসেবক দল। স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সদস্যরাও সার্বিক তদারকিতে অংশ নিচ্ছেন।
শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় কাশিমপুরের পূজা আয়োজকরা। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ জাতীয় নানা দিবসেও তারা অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর মাধ্যমে তারা শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চেতনারও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কাশিমপুর এখন রঙিন উৎসবের নগরী। আলো, সঙ্গীত ও ভক্তদের ঢল মিলিয়ে এক অনন্য মেলবন্ধনে সাজানো এই উৎসব সকলের জন্য আনন্দের, মিলনের ও সম্প্রীতির।
বাড়ি নং-৬৬, সোনারগাঁ জনপথ রোড, সেক্টর -১১, উত্তরা ঢাকা-১২৩০
মোবাইল নং: ০১৯৮৫২৩১১১২
Copyright © 2026 টপ নিউজ প্রতিদিন | বাংলা নিউজ পেপার. All rights reserved.