তৈয়্যবুর রহমান চরফ্যাশন-ভোলা প্রতিনিধি:
বিচার মানেই কঠোরতা—এমন ধারণা ভাঙছেন দ্বীপ জেলা ভোলার সর্ব দক্ষিণের চরফ্যাশন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অনুতোষ চক্র বালা। ন্যায়বিচারের পাশাপাশি মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।
এ আদালতে প্রতিদিন অসংখ্য মামলা বিচাঁর করতে হয় তাঁকে। তবে শুধু আইন প্রয়োগেই সীমাবদ্ধ থাকেন না তিনি। রায়ে মানবিকতার ছাপ রেখে অভিযুক্ত ও বিচারপ্রার্থীদের আস্থা অর্জন করেছেন। তাঁর বক্তব্যে প্রায়শই উঠে আসে—“অপরাধ দমন জরুরি, তবে মানুষকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া আরও জরুরি।”
চরফ্যাশন উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে আইনি জটিলতায় পড়া অসহায় মানুষদের প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব তাঁকে অন্যান্য বিচারকদের থেকে আলাদা করেছে। দরিদ্র কোনো বিচারপ্রার্থী আইনজীবীর সহায়তা না পেলে তিনি আইনি সহায়তা পাওয়ার পথ সহজ করে দেন। এ কারণে সাধারণ মানুষ তাঁকে একজন “মানবিক বিচারক” হিসেবে ডাকতে শুরু করেছেন।
চরফ্যাশন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আইনজীবী ও সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, অনুতোষ চক্র বালা শুধু দায়িত্বশীল বিচারক নন, বরং একজন ভালো মানুষও। তাঁর প্রতিটি আদেশে আইনের পাশাপাশি সামাজিক বার্তাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আদালতের কঠিন পরিবেশেও তিনি হাসিমুখে বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। নিয়মশৃঙ্খলা বজায় রেখেই তিনি আদালতে এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন, যেখানে সাধারণ মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে নিজেদের কথা প্রকাশ করতে পারেন।
তথ্যসূত্রে জানা যায়,সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অনুতোষ চক্র বালা ভোলায় যোগদানের পূর্বে সুনামের শহীদ বরগুনা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এবং কর্মরত থাকা অবস্থায় স্বয়ং তিনি নিজে সরেজমিনে গিয়ে সাধারণ মানুষের জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করে আসতেন।
মাত্র কয়েক দিনে ন্যায় ও মানবিকতার অনন্য সমন্বয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অনুতোষ চক্র বালা হয়ে উঠেছেন মানুষের আস্থার প্রতীক। তাঁর প্রতিটি রায় ও আদেশ দৃষ্টান্ত সমাজে এক ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে—“মানবিকতা ছাড়া প্রকৃত ন্যায় প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।