বালি মহিলাটি দাখিল মাদ্রাসায় বৃক্ষ রোপন ওজলবায়ু সচেতনতা বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

36

সৈয়দ সময় ,নেত্রকোনা :

জলবায়ু সচেতনত থাকি-সবুজ পৃথিবী সুরক্ষিত রাখি এই শ্লোগান কে সামনে রেখে ” জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কেবল আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নয় , স্থানীয় উদ্যোগও আবশ্যক “
বিষয়ক আলোচনা ও বৃক্ষ রোপন কার্যক্রম পালিত হয়েছে নেত্রকোনা জেলা সদরের বালি মহিলাটি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে।
৩১ জুলাই সকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানে শিক্ষক ফুল মিয়ার সঞ্চালনায় ও সুপারেন্টেন্ড মো: মজিবুর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রভাষক সাদেক মিয়া । এ সময় সকল শিক্ষার্থীরাসহ , অভিভাবক , শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।

শিক্ষার্থীরা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় করণীয় ও সচেতনতা বিষয়ক উপস্থিত আলোচনা , বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও দেয়ালিকা প্রকাশ করে । মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ২১ টি ঔষধি,ফলজ ও বনজ বৃক্ষ রোপন করা হয় ।

২টি ঔষধি ও ফলজ বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে প্রধান অতিথি প্রভাষক সাদেক মিয়া ।

প্রধান অতিথির বক্তৃায় প্রভাষক সাদেক মিয়া বলেন ,আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় উপস্থিত থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এই প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় কেবল আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নয়, স্থানীয় উদ্যোগও আবশ্যক” এমন একটি বাস্তবতা, যা আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

আমরা সবাই জানি, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর কোনো ভবিষ্যতের হুমকি নয় এটা আমাদের বর্তমান। মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাচ্ছে, সাগরের পানি বাড়ছে, বাংলাদেশে খরা ও বন্যা একসঙ্গে দেখা দিচ্ছে, কৃষি হুমকির মুখে পড়েছে। এই সংকট মোকাবেলায় জাতিসংঘ, কপ সম্মেলন, প্যারিস চুক্তির মতো আন্তর্জাতিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এটা অনস্বীকার্য। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এগুলো কি যথেষ্ট?

উত্তর হলো না।

কারণ এই বিশ্বব্যাপী সংকটের প্রতিক্রিয়া ঘটে প্রতিটি পাড়ায়, গ্রামে, নগরে। আর তাই এর প্রতিরোধও শুরু হতে হবে এখান থেকেই স্থানীয় পর্যায় থেকে।

আমরা যদি প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন না হই, তাহলে আন্তর্জাতিক উদ্যোগও বিফলে যাবে।

আপনি যদি একটি গাছ লাগান—সেটাও একটি পরিবেশ রক্ষা।

আপনি যদি পলিথিন ব্যবহার না করেন সেটাও জলবায়ু সচেতনতা।

বিদ্যালয় যদি বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করে সেটাও জলবায়ু সহনশীলতা।

শুধু রাষ্ট্র নয়, ব্যক্তি, পরিবার, বিদ্যালয়, ইউনিয়ন, পৌরসভা সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। স্থানীয় উদ্যোগ ছাড়া আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

সুতরাং আজকের এই প্রতিযোগিতা শুধু একটি বিতর্ক নয় এটি একটি আন্দোলনের সূচনা। তোমাদের কণ্ঠে আজ যে যুক্তি উচ্চারিত হয়েছে, তা ভবিষ্যতে এক একটি সিদ্ধান্তে রূপ নেবে। আজ যারা বিতর্ক করছে, তারাই একদিন দেশ ও পৃথিবীর নেতৃত্ব দেবে।

আমি প্রতিযোগীদের বলব তোমরা হেরে যাও বা জিতে যাও, তাতে কিছু যায় আসে না। কিন্তু তোমাদের চিন্তা, উদ্বেগ ও দায়িত্ববোধ যেন বেঁচে থাকে প্রতিদিনের কাজে। এই পৃথিবী আমাদের সকলের, এবং এটার রক্ষা করাও আমাদের সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব।

শেষে, আমি এই সুন্দর আয়োজনের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, আয়োজক কমিটি, শিক্ষকবৃন্দ ও বিশেষভাবে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

স্লোগান দিই “চিন্তা করি স্থানীয়ভাবে, কাজ করি যৌথভাবে, রক্ষা করি আমাদের পৃথিবী!”

ধন্যবাদ।
জয় হোক সচেতনতায়, জয় হোক সবুজ ভবিষ্যতের।

Leave a Reply