লালমনিরহাটে ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা

মো.হাসমত উল্লাহ,লালমনিরহাট।।

লালমনিরহাট জেলায় ধান পাকেনি পুরোপুরি। কোথাও ধানের থোর এসেছে, কোথাও কলা পাকার মতো হয়েছে। কাটার মতো হয়নি ইরি-বোরো ধান। এরই মধ্যে দিনের আবহাওয়া দেখে ঝড়-বৃষ্টির আভাস পাচ্চে কৃষকরা। ফলে জেলার কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে, শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। এবার প্রচণ্ড তাবদাহ ও খরার কারণে সেভাবে সেচ দিতে পারেনি জেলার কৃষকরা।

টানা খরার কবলে পড়ে ইরি-বোরোর আবাদকরতে কৃষকদের খরচ বেড়েছে সেচে। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক কষ্টে ক্ষেত বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন তারা। তারপরও অনেক জায়গায় ইরি-বোরো ক্ষেত পুড়ে গেছে। এমন অবস্থায় ইরি-বোরো এবারে চিটা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার সতীরপাড় এর কৃষক বাদশ আলী জানান, এ বছরের মতো খরা কোনো বারেই দেখেননি তিনি। প্রতিদিনই ইরি-বোরো জমিতে সেচ দিতে হয়েছে। তারপরও পানি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। রেশনিং পদ্ধতিতে সেচ মালিকরা পানি দিয়েও কুলাতে পারেননি। এ বছর ফলন কম হবে এমনটি বলেছেন তিনি। জেলার আদিতমারী উপজেলার চন্দন পাঠ গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার জানান, এবারের টানা খরায় সেচ ও কীটনাশক দিয়েও খুব একটা কাজ হয়নি।

ফসলের অবস্থা খুবই খারাপ। তিনি বলেন, ইরি- বোরো ধান এখন আধাপাকা আছে। এসব ধান ১০/১৫ দিনের মধ্যে কাটার উপযোগী হবে। এছাড়া এই জনপদের কৃষি শ্রমিকরা আগাম জাতের ধান কাটতে বাইরের জেলায় গেছেন। লালমনিরহাট জেলায়  সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ওঠানামা করছে ৪০ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এ অবস্থায় ঝড় বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলে শঙ্কা চাষিদের। কালীগঞ্জ উপজেলা  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা অফিসার তুষার কান্তি রায় জানান, এ বছর কালীগঞ্জ উপজেলায় ১৩ হাজার ৭০হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এবারের প্রচণ্ড তাপদাহ ও বৃষ্টির অভাব ছিল ইরি-বোরো ক্ষেতে। তাপ পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামীতেও এমন প্রাকৃতিক বৈকল্য বাড়বে।

এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গবেষণা জরুরি বলে মনে করছেন উপজেলার ওই কৃষি কর্মকর্তা। প্রচণ্ড তাপের কারণে কৃষকের ফসল যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য তাদেরকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

Leave a Reply