বগুড়ায় আদমদীঘি ইসলামী ব্যাংকের ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের মামলায় সুজন গ্রেফতার


মোঃকাওছার মিয়া দিপু বগুড়া জেলা প্রতিনিধি

বগুড়া আদমদীঘি উপজেলার চাঁপাপুর বাজার ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এজেন্ট ব্যাংক লিমিটেড শাখার ব্যবস্থাপক কাজী মিজানুর রহমান একটি অভিযোগ দায়ের করেন যে, গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ সুজন রহমান (২৭) উক্ত ব্যাংকের ক্যাশিয়ারের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। গত ২৩ মে আসামী তার কর্মস্থলে আসেনা।

পরবর্তীতে তার বাসায় খোঁজ নিয়ে দেখা যায় বাসায় তালা লাগিয়ে অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে গিয়েছে। গত ২৩ মে মার্জিয়া বেগম নামের একজন গ্রাহক উক্ত ব্যাংকে তার জমাকৃত ৪,০৫,০২৩/- টাকা হতে কিছু টাকা উত্তোলন করতে আসে দেখে তার একাউন্টে ৪১৮৬০/- টাকা রয়েছে। পরবর্তীতে জানা যায় যে আরো অনেক গ্রাহকের নিকট হইতে টাকা জমা গ্রহণ করিয়া ব্যাংকে জমা প্রদান না করিয়া এবং একাধিকবার ফিংগার প্রিন্ট গ্রহণ করিয়া মার্জিয়া বেগমসহ বিভিন্ন গ্রাহকের সর্বমোট ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে। যার প্রেক্ষিতে বগুড়া আদমদীঘি থানার মামলা নং-২৯, তারিখ ২৯ মে ২০২৪ ইং ধারা-৪০৬/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/১০৯ পেনাল কোড-১৮৬০ রুজু হয়।

এ ঘটনার পর থেকেই র‌্যাব আসামীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারী শুরু করে। মঙ্গলবার ৯ জুলাই র‌্যাব-১২, বগুড়া ও র‌্যাব-৪, সাভার এর যৌথ অভিযানে ঢাকা জেলার ধামরাই থানাধীন তালতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামী মোঃ সুজন রহমান (২৭), পিতা- মোঃ এনামুল হক, গ্রাম গোবিন্দপুর, থানা- কাহালু, জেলা- বগুড়া’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। উল্লেখ্য যে, ধৃত আসামী জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে জানায় উল্লেখিত এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার আউটলেটটি তার বড় চাচার নামে লাইসেন্সকৃত।

তার বড় চাচা বিভিন্নভাবে আর্থিক সংকটে পড়লে তারা মিলে পরিকল্পনা করে যে গ্রাহক হতে টাকা জমা নেওয়ার সময় সম্ভব হলে রিসিপ্ট না দিয়ে গ্রাহককে ম্যানেজ করবে ও উক্ত টাকা গ্রাহকের একাউন্টে জমা না করে নিজেরা ভাগ করে নিতো। অপরদিকে গ্রাহক ফিংগারপ্রিন্ট দিয়ে তাদের একাউন্টে রক্ষিত অর্থ উত্তোলনের সময় একাধিকবার ফিংগারপ্রিন্ট নিয়ে অধিক টাকা উত্তোলন করতো। একবার ফিংগারপ্রিন্ট দেয়ার বিপরীতে উত্তোলিত অর্থ গ্রাহককে দিত বাকিটা নিজেরা নিয়ে নিতো। এভাবে প্রায় এক বছর যাবত ধাপে ধাপে এজেন্ট ব্যাংকিং শাখাটির পরিচালনাকারীরা প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। উল্লেখ্য ধৃত আসামীর বিরুদ্ধে আদমদীঘি থানায় অর্থ আত্মসাতের আরো একটি মামলা রয়েছে, যার নং-২৯, তারিখ ২৮/০৫/২৪ ধারা-৪০৬/৪২০ পেনাল কোড-১৮৬০। দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষে গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদমদীঘি থানায় হস্তান্তর করা হবে।

Leave a Reply