পটিয়ার শিকলবাহা হাইওয়ে ক্রসিং পুলিশের ব্যাপারোয়া চাঁদাবাজি অতিষ্ঠ পরিবহন মালিক শ্রমিকটোকেনই ভরসা, টোকেনেই ব্যবসা

সেলিম চৌধুরী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:-

চট্টগ্রামের পটিয়া- কর্ণফুলী শিকলবন্দী হাইওয়ে ক্রসিং পুলিশের চাঁদাবাজি অতিষ্ঠ পরিবহন শ্রমিক। আরাকান মহাসড়ক ও অলিগলিতে সিএনজি এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলছে।

জানা যায়, ট্রাফিক পুলিশ ও কথিত মালিক সমিতির টোকেনেই চলছে এসব সিএনজি ও তিন চাকার নিষিদ্ধ যানবাহন। সচেতন মহলের দাবি, কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে চলছে এসব যান হতে চাঁদাবাজি। যেন টোকেনই ভরসা আবার টোকেনে ব্যবসা।

অপরদিকে, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করেই ট্রাফিক পুলিশের টিআই ও সার্জেন্টসহ কিছু নাম সর্বস্ব মালিক সমিতির যোগসাজসে টোকেনে আদায় করছে লাখ লাখ টাকা। এ যেন কাঁচা টাকার রমরমা বাণিজ্য। যে টাকার একটি বড় অংশ স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের পকেটেও যাচ্ছে তার পাশাপাশি কতিপয় কয়েকজন সংবাদ কর্মী রয়েছে বলে  প্রচার রয়েছে।

তথ্যমতে, কর্ণফুলী উপজেলার প্রধান সড়কগুলোতে অবৈধ কিছু সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত টমটম এবং তিন চাকার রিকশা চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন মানুষ ও শিশুদের নাম।

আরাকান মহাসড়কের মইজ্জ্যারটেক ও শিকলবাহা ক্রসিং গুলোতে মেট্রোপুলিশ ও হাইওয়ে ট্রাফিক পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান করলেও স্থানীয়রা বলছে তা নামমাত্র আইওয়াশ। ধরা ছোয়ার বাহিরে এসব যানবাহন বরং সমিতি ও তাদের নির্দিষ্ট টোকনের মাধ্যমে চলছে অবাধে সিএনজি অটোরিকশাসহ নিষিদ্ধ যান।

সূত্র মতে, গত বছরের ডিসেম্বরে সিএনজি হতে মাসে দুইশত টাকা আদায় করলেও নতুন বছরে বাড়ছে চাঁদার পরিমাণ। মইজ্জ্যারটেকে ইউসুফ নামে এক ব্যক্তি এখন মাসে  ২০০/৩০০  টাকা করে প্রতি সিএনজি হতে আদায় করছে এমনটি অভিযোগ স্বয়ং সিএনজি ড্রাইভারদের। অন্যদিকে নিষিদ্ধ টমটম ও তিন চাকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা হতে কিছুদিন জামাল  নামে আরেক ব্যক্তি মাসিক হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করেন এবং সমিতিগুলোর পক্ষ থেকে বিশেষ স্টিকার লাগিয়ে কয়েক হাজার সিএনজি হতে লাখ লাখ টাকা হজম করারও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও পটিয়া অটো টেম্পো সমবায় সমিতির চালককরা মাসিক চাঁদা দিয়ে চলছে। এছাড়াও গাড়ি আটক বানিজ্য হাইওয়ে পুলিশের ব্যাপারোয়া হয়েছে একাধিক গাড়ি চালকরা জানান,
অপরদিকে একটি সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে টাকা আদায়ের অহরহ অভিযোগ রয়েছে। যাহা তথ্য রেকর্ত রয়েছে প্রতিবেদকের কাছে। 

মনির, জসিম, আরমান, ইসাক, হারুন সহ অনেকজন
সিএনজি চালক বলেন, ‘পুলিশকে দেওয়ার কথা বলে শ্রমিক সংগঠনগুলো তুলছে এই টাকা। মূলত ঘাটে ঘাটে অর্থ লেনদেনের কারণেই সরকারি নির্দেশনার পরও  মহাসড়কে বন্ধ করা যাচ্ছেনা নিষিদ্ধ চাঁদাবাজি ও তিন চাকার যান। তবে, টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে ট্রাফিক পুলিশ বলছে, মহাসড়কে কোনোভাবেই চলতে দেওয়া হবে না তিন চাকার যান।’ তবে মাঠের তথ্যের সঙ্গে কথায় আর কাজে আসমান-জমিন ফারাক তাদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, এই সড়কে চলা প্রায় সবগুলো সিএনজি অটোরিকশার সামনের গ্লাসে জল রংয়ের কতগুলো বিশেষ স্টিকার লাগানো। তাছাড়াও প্রেস স্টিকার বানিজ্য চালাচ্ছে কতিপয় সংবাদ কর্মী। মুলত এ-সব করতে পারে শিকলবাহা হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজি আড়াল করার জন্য। তাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে সুএে প্রকাশ।

অনেকের মতে যা ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার বিনিময়ে এই স্টিকারগুলো কেনা হয়েছে শ্রমিক সংগঠনের কাছ থেকে।

শ্রমিক সংগঠন ও সমিতিগুলো মাসে মাসে একেক রংয়ের এসব স্টিকার কোথায় পায় জানতে চাইলে ড্রাইভাররা বলেন, ট্রাফিক পুলিশই মূলত এসব স্টিকার সমিতিকে দেন। এই টোকেন থাকা মানে মহাসড়কে চলার বৈধতা। আর কোনো বৈধ কাগজপত্র লাগে না তাদের!

ট্রাফিক পুলিশ গাড়ির লাইসেন্স চেক করেন কিনা জানতে চাইলে সিএনজি ড্রাইভার  হারুন  বলেন, ‘গাড়ি চালাচ্ছি গত ৭ বছর হবে কখনো কাগজ দেখতে চাইনি। তবে প্রতি মাসে মাসে টোকেন ঠিকই চেক করেন?

উপজেলার মইজ্জ্যারটেকের বজল ড্রাইভার  বলেন, ‘হাইওয়ে রোডে চলার জন্য টোকেন আছে। এই টোকেন আমরা টাকা দিয়ে প্রতি মাসে নেই। টোকেনের টাকা দেওয়া হয় আমাদের সমিতির লোকের কাছে। এরা ট্রাফিক পুলিশ হতে টোকেন এনে তাদের গাড়িতে লাগিয়ে দেয় বলে জানান।’

সচেতন মহলের দাবি, স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বছরের পর বছর টোকেন সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। আর অভিযোগ উঠেছে, এ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন ট্রাফিক পুলিশেরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট হর্তাকর্তাগণ।

নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্বেও এসব বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা এসব বিষয়ে কিছু বলতে অপরাগতা পোষণ করেন।
বছরের পর বছর ধরে এসব অবৈধ যানবাহন চলাচল করলেও বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ও পুলিশ প্রশাসন যেন দেখেও দেখছে না। সে সুযোগে রমরমা টোকেন বাণিজ্যে মেতে উঠেছে একটি সিন্ডিকেট চক্র। ফলে হাতিয়ে নিচ্ছে তারা বছরে কোটি কোটি টাকারও বেশি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিআরটিএ কিংবা প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া এসব টোকেন বিতরণ করছে উপজেলা ভিত্তিক বিভিন্ন সিএনজি-অটোরিকশা মালিক সংগঠন ও শ্রমিক সমিতির নেতাকর্মীরা। এ থেকে মোটা অঙ্কের মাসিক মাসোহারা পায় বিআরটিএ’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও এমনটি অভিযোগ সচেতন মহলেরও।
এসব অবৈধ সিএনজি চলাচলে প্রশাসনের ঝামেলা এড়াতে মালিক ও চালকরা প্রশাসনের সঙ্গে গোপন সমঝোতা করে স্থানীয় কিছু নেতাদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট হারে মাসোহারা দিয়ে রাস্তায় চলাচলের বৈধতা কিংবা রুট পারমিট নেন। 

Leave a Reply