নারীলোভী, পরকীয়াবাজ, একাধিক বিয়ে ডা: আলা উদ্দিনের শেষ কোথায়? তৃতীয় স্ত্রীকে দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে উচ্ছেদ ও প্রান নাশের হুমকি

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীতে নারী লোভী ডা. আলা উদ্দিনের একাধিক বিয়ে সহ সাবেক স্ত্রীর যৌতুক মামলা জেরে প্রান নাশের হুমকি এবং এলাকা থেকে উচ্ছ্বেদ করন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার সুত্রে ও অভিযোগে যানা যায়, ফেনী সদর হাসপাতালের কর্মরত শিশু বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ আলাউদ্দিন এর বিরুদ্ধে সাবেক স্ত্রী ডাঃ আসমাতুন নেছা ও সাবেক স্ত্রী ডাঃ সৈয়দা লুলু মারজাহান দুইজনেই ৫০ লক্ষ টাকা যৌতুক ও ১০ লক্ষ টাকার দেনমোহরে মামলা করেন।

ডা. আছমাতুন নেছা বর্তমানে গাইনী ডাক্তার হিসেবে নোয়াখালীর বানিজ্যিক শহর চৌমুহনীতে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চেম্বার করে আসছে। গত ২১ বছর আগে ৩ লক্ষ টাকা দেনমোহরে কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার ডা. আলা উদ্দিনের সাথে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক তাদের বিবাহ হয়। প্রথম সংসারে তৌফিক ই-ইলাহী (১৭) নামে ১টি পুত্র সন্তান ১টি কন্যা সন্তান তানিশা জাহান (৮ বছর) রয়েছে। কয়েক বছর সুখে শান্তিতে যাওয়ার পর ডা. আলা উদ্দিন পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়েদের সাথে মেসেজ ও খারাপ কথা বলতে থাকে। তার এইসব কর্মকান্ডে আমি প্রতিবাদ করলে সে প্রায় সময় আমাকে মারধর করতো। তার ছেলে তৈফিক-ই এলাহীকে ক্ষিপ্ত হয়ে তিন বছর আগে গভীর রাতে গলা টিপে প্রাণে হত্যা চেষ্টা করে তারই বাবা আলা উদ্দিন। খবর পেয়ে মা ডা. আসমা বেগমগঞ্জের নাজিরপুর ডক্টরস টাওয়ার থেকে পুলিশের সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় তখন ছেলেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়।

পারিবারিক জীবনে বিভিন্ন সময়ে সে আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে চালাতো। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে কোন প্রতিবাদ করতাম না। আসলে সে একজন অর্থলোভী, যৌতুক লোভী, নারী নির্যাতনকারী, পরকীয়াবাজ এবং নেশাগ্রস্ত লোক। সংসারের এইসব কারনে প্রতিবাদ করাতে ডা. আলা উদ্দিন বিগত ৩ বছর পূর্বে আমাকে এক তরফা তালাক প্রদান করে

উল্লেখ্য, গত ২০২২ সালের মে মাসে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার উপর অতর্কিত হামলা করে। সে বিষয়ে আমি বেগমগঞ্জ মডেল থানার মামলা করি। যার নাম্বার- ৫০, তারিখ- ২৬/০৫/2022 ইং, ধারা-৩২৩/৩২৫/৩০৭/৫০৬ পেনাল কোড।

পরবর্তীতে সে আবার কোম্পানি গঞ্জের বসুহাটের ডিভোর্সি ও এক সন্তানের জননীকে দ্বিতীয় স্ত্রী লুলু মারজাহানের সাথে তথ্য গোপন করে বিয়ে করে। এক পর্যায়ে মেয়েটি যখন জানতে পারে তার দুইটি পরিবার রয়েছে। তাই এই বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে হুমকি-ধুমকি দিয়ে তাকেও ডিভোর্স দিয়ে দেয়। তার সাথেও পাচ মাসের বেশি সংসার টিকে নি। এইসব কারনে সাবেক দ্বিতীয় স্ত্রী তার বিরুদ্ধেও একটি মামলা করেন। সেটি বিজ্ঞ আদালতে এখনো চলমান রয়েছে।

পরবর্তীতে নারী লোভী ও পরকীয়াবাজ নোয়াখালী সদরে এক সন্তানের জননী ও ডিভোর্সি উম্মে সালমা নামে আরেকজনের সাথে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে এবং আগের তথ্য গোপন করে তৃতীয় বিয়ে করেন। আমি এইসবের প্রতিবাদ করায় তার তৃতীয় স্ত্রীকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় এই বছরের এপ্রিল মাসে একটি মামলা দায়ের করে।

এইছাড়াও জানা যায়, ডা. আছমাতুন নেছার সাথে সম্পর্ক থাকা কালীন ডা. আলা উদ্দিন সহ দক্ষিণ নাজিরপুরে অবস্থিত যৌথ টাকায় ডক্টরস টাওয়ারে ২টি ফ্ল্যাট ক্রয় করেন। আমি এখন দুইটি ফ্ল্যাটের একটিতে বসবাস করে আসছি। এই অবস্থায় সে আমাকে উক্ত ফ্ল্যাট হতে উচ্ছেদ করার পায়তারা চালাচ্ছে। ডা. আলা উদ্দিন সাবেক স্ত্রী ডা. আছমাতুন নেছার আত্মীয়-স্বজনের নিকট গ্রামের বাড়ীতে বিভিন্ন লোকের হুমকি ধুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

আমাদের বিবাহ বিচ্ছেদের স্থায়ী সমাধানের জন্য স্থানীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মামুনুর রশীদ কিরন এবং সাচিব নেতা মাহবুবের উপস্থিতিতে শালিশ বৈঠক হলে আমাকে এক কালীন ৫০ লক্ষ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সে কারো কথা তোয়াক্কা না করে তাদের অমান্য করে বলে যে টাকা দিলে আমাকে নোয়াখালী ছাড়তে হবে। মামলা চলাকালে ডা. আলা উদ্দিন তার সহকর্মীদের দিয়ে বিভিন্ন সময় আমার ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়।

ডা. আলা উদ্দিন আমাকে ৫০ লক্ষ টাকা না দিয়ে আমাকে নোয়াখালী হতে উচ্ছেদ করার বিভিন্ন মাধ্যমে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। আদালতে আমার দায়েরকৃত ভরন পোষনের মামলায় রায় হলে আমাকে প্রতিমাসে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়ার রায় দিলেও সে আমাকে ভরন পোষন বাবদ টাকা দিচ্ছে না। তার এইসব কার্যক্রমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় তার প্রতারণা ও নির্যাতনের নিউজ ও প্রকাশিত হয়।

ডা. আছমাতুন নেছার কাছে ডা. আলা উদ্দিনের পরকীয়া সহ বিভিন্ন নারীদের নিয়ে বাজে কথা ও মেসেজ এবং অন্যান্য প্রমান থাকায় তার উপর এইসব নির্যাতন সহ প্রান-নাশ, উচ্ছ্বেদ করার তৎরপতা চালাচ্ছে।

ডা. আলা উদ্দিন নোয়াখালী আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে ছিলেন। সাবেক স্ত্রী ডা. আছমাতুন নেছা স্বাস্থ্য সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগের প্রক্ষিতে প্রমান হওয়ার পর ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে নীলফামারিতে তাকে বদলি করা হয়। এরপর কয়েক মাস যেতে না যেতে আবার বিভিন্ন যোগ সাজশে বদলি হয়ে এখন ফেনী সদর হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন।

এইছাড়াও এই মাসের প্রথম দিকে রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার কর্পোরেট অফিসে ডাক্তারদের একটি অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর বিকেলে যাত্রাবাড়ী আমার মায়ের বাসায় যাওয়ার জন্য অফিসের সামনে রাস্তার উপর দাড়িয়ে গাড়ীর জন্য অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় ডা. আলা উদ্দিন ও তার তৃতীয় স্ত্রী উম্মে সালমা আমার সামনে এসে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং আমাকে প্রানে মেরে ফেলবে বলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে যায়। সে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ও হত্যার উদ্দ্যেশে ৬ই মে আমি চেম্বার শেষ করে বাসায় যাওয়ার সময় চৌরাস্তায় তার লোকজন সহ আমার উপর হামলা করে এবং প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলে আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে প্রাণে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে এবং আমাকে ফ্ল্যাট হতে উচ্ছেদ করবে। তাই এইজন্য আমি এবং আমার ছেলে সহ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

Leave a Reply