দুমকিতে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত পাবলিক টয়লেট ভেঙে ফেলায় জনমনে ক্ষোভ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকিতে ব্যক্তিস্বার্থে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত পাবলিক টয়লেট ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সুত্রে, পবিপ্রবি ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোঃ নাঈম হোসেন লোকজন নিয়ে সম্প্রতি লেবুখালী হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কের পাশের পাবলিক টয়লেটটি প্রকাশ্য দিবালোকে ভেঙ্গে ফেলেন। সরকারি উদ্যেগে নির্মিত জনস্বার্থের এ পাবলিক টয়লেটটি ভেঙ্গে ফেলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ হাওলাদারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানে একান্ত সহকারি নাঈম এর আগে চেক জালিয়াতির ঘটনায় পবিপ্রবি ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে। দুমকি উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান হারন অর রশিদ হাওলাদার এর আমলে পাবলিক টয়লেট সুবিধা দেয়া হলে এবার নির্বাচনে তিনি (হারুন অর রশীদ) পরাজিত হলে তার একান্ত সহকারী নাঈম হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে পাবলিক টয়লেটটি ভেঙে ফেলেছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

গত সোমবার দুপুরে উপজেলার লেবুখালী ১ নং ওয়ার্ডের হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এই ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি  বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আব্দুল আহাদ বিশ্বাসের স্বাক্ষর জাল করার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নাঈম হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়।

এ ব্যাপারে লেবুখালী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন প্যাদা বলেন, নাঈম নিজে এখানে দাড়িয়ে থেকে দুপুরবেলা লোকজন নিয়ে টয়লেটটি ভেঙে ফেলেছে। এখানের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও মসজিদের মুসল্লীরা এই টয়লেটটি ব্যবহার করতেন। এখন টয়লেটটি ভেঙে ফেলায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পান ব্যাবসায়ী সুদির মালাকার, নিতাই, স্থানীয় বাসিন্দা রুস্তম ফরাজি, রুহুল আমিনসহ সবারই একই বক্তব্য। সাবেক ইউপি সদস্য আবদুস সালাম ডাক্তার বলেন, এলজিএসপি’র অর্থায়নে এবং লেবুখালী ইউনিয়ন পরিষদের তত্ত্বাবধানে জনস্বার্থে নির্মিত পাবলিক টয়লেটটি সরকারি সম্পদ। এটি কারো ভাঙ্গার অধিকার নেই। রীতিমতো অপরাধ আর এ জন্য অভিযুক্তের বিচার হওয়া দরকার।

 এ ঘটনায় নাঈম হোসেন বলেন, কতৃপক্ষের মৌখিক সম্মতিক্রমেই এটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এর নেপথ্যে কোন ইস্যু নেই। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষন এড়াতেই জনবসতি এলাকা থেকে এটি ভাঙ্গার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মাহমুদ বলেন, পাবলিক টয়লেট ভেঙ্গে ফেলার খবর লোকমুখে শুনেছি, কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি। সরেজমিন দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Leave a Reply