দালালে টইটুম্বুর উত্তরাআঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা উত্তর সিটি প্লট নং-০৫,ব্লক- এইচ, রোড নং-৩/বি,সেক্টর-১৫ নং এ অবস্থিত আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে নতুন কোনো ব্যক্তি পাসপোর্ট করতে গেলেই গেট থেকে শুরু করে পঞ্চম তলা পর্যন্ত চলে দালালের টানাটানি।এখানে রয়েছে এক ঝাঁক দালালচক্র। জনসাধারণের অভিযোগ, অফিস এরিয়াতে যেকোনো লোক ঢুকতে না ঢুকতেই দালালের শুরু হয় টানাহেসরা।

দালালরা বলে,” স্যার/ম্যাম কেন এসেছেন? কার কাছে যাবেন? কি কাজ করাবেন ? আমাকে দেন সহজেই ভিতর থেকে করিয়ে দিব। আপনাকে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না। ” শুধু তাই নয়, এখানকার পাহারাদার আনসার সদস্যরাও সহজে পাসপোর্ট করিয়ে দেওয়ার নামে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। দালালকে মোটা অংকের টাকা দেওয়ার বিনিময়ে, পাঁচ মিনিটেই লাইন ধরা ছাড়াই পাসপোর্ট এর কাগজ হয়ে যায় জমা।

অথচ সকাল থেকে লাইনে দাঁড়ানো শতাধিক মানুষকে দাঁড়িয়েই থাকতে হয় লাইনে। আবার শুরু হয় ইন্টারনেট সার্ভার পাচ্ছে না বলে এখান কার কর্মকর্তাদের অজুহাত,অথচ আনসার ও দালালরা ভিতরে ঢুকে সহজেই প্রয়োজনীয় কাগজ পাতিতে করিয়ে নিচ্ছে শৈশাক স্বাক্ষর । আবার পাসপোর্ট অফিসেরই ভিতরে পাসপোর্ট আবেদনকারীর পাসপোর্টের কাগজপত্র দেখতে চাওয়ার কথা বলে নিয়ে নেয় দালালচক্র এবং পরবর্তীতে করতে থাকে ব্ল্যাকমেইলিং টাকা না দিলে কাগজ পত্র গায়েব হয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, দালাল চকের সদস্যরা বুক ফুলিয়ে পাসপোর্ট অফিসের ভিতরে ও বাহিরে উভয় স্থানেই করে যাচ্ছে হয়রানি ও লুটছে মোটা অংকের টাকা এবং সাধারণ জনগণ পড়ছে ভোগান্তির মুখে। দালাল চক্রের সদস্যদের সাথে উঠেছে আনসারদের নামও।

আনসার সদস্যরাই মোটা অংকের টাকা নিয়ে করিয়ে দেয় পাসপোর্ট ভিতর থেকে। পাসপোর্ট আবেদনকারীর থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকা ভাগ বাটোরা হয় দালাল আনসার ও অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের মাঝে।এবং কি এখানে সেবা ভুগি মানুষদের সাথে কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের খারাপ আচরণ চোখে পড়ে।


অথচ নাগরিক সেবার বড় জায়গা পাসপোর্ট অফিস, সেবা বিকেন্দ্রি করোনে ঢাকায় আঞ্চলিক অফিস বাড়ানোর কারণে ভোগান্তি কিছুটা কমলেও দালাল, আনসার ও পাসপোর্ট অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের দৌরাত্ম আর কর্মকাণ্ডের কারণে সেবার বিপরীতে আরো হতে হচ্ছে পদে পদে হয়রানি দেশের নাগরিক হিসেবে পাসপোর্ট করতে আসা আবেদনকারী কে। এদের অপকর্ম কাণ্ডের কারনে সরকারি পাসপোর্ট অফিস যেন হয়ে উঠেছে দুর্নীতির বেড়াজালে বন্দী। দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে পাসপোর্ট অফিস, এই দালাল চক্রের কর্মকান্ডে।

জাতির প্রশ্ন, ” আমরা দেশের নাগরিক হয়েও, কেন একজন স্বাধীন নাগরিক হিসেবে পাচ্ছিনা পাসপোর্ট সেবা? কেনো হতে হচ্ছে হয়রানির শিকার? পরতে হচ্ছে দালাল, আনসার ও পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের দেউয়া ভোগান্তিতে? দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার কড়া নির্দেশ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার। অথচ যেখানে সরকারের নিযুক্ত করা খোদ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাই করছে দুর্নীতি, সেখানে আমরা আর কোথায় যাবো? পাসপোর্ট করতে গিয়ে পিয়ন থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতম কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে দিতে হয় ঘুষ।

অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, সরকারি বাসভবন-গণভবনে বসে বলেছিলেন, ” কোথায় দুর্নীতি হচ্ছে? আমাকে তথ্য দিন। আমি ব্যবস্থা নিব। আমাদের সোনার বাংলায় দুর্নীতিবাজদের কোন জায়গা নেই।” অথচ দুর্নীতি দমন কমিশন থাকলেও আমরা হচ্ছি পদে পদে হয়রানি? তবে কি প্রশাসন চোখে পড়ে আছে কাঠের চশমা? স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কন্যা মাননীয় জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন জানাই, পাসপোর্ট অফিসে আমাদের হয়রানি থেকে মুক্ত করার এবং দালাল, মুখোশধারী দুর্নীতিবাজ আনসার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপযুক্ত শাস্তির এমনটাই দাবি সাধারণ জনগনের
সাধারণ জনগণ আরো বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার একটাই কথা আগে সোনার বাংলা ওরে অন্য কিছু সাধু সাবধান!

Leave a Reply