ছবিতে ছাগলের সাথে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি জাতীয় রাজস্ব কর্মকর্তার ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাদ

নিজস্ব প্রতিবেদ

ছবিতে ছাগলের সাথে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি মুশফিকুর রহমান ইফাদ। তার বাবা মতিউর রহমান একজন জাতীয় রাজস্ব কর্মকর্তা। ইফাদ যেই ছাগলটি কিনেছেন তার দাম ১২ লাখ টাকা, এর বাইরেও তিনি আরো ৩৮ লাখ টাকার গরু কিনেছেন শুনলাম। কমন সেন্স খাটায়ে আমরা ধরে নিতে পারি ইফাদ নিজের টাকায় গরু কিনতে আসেন নাই, তিনি তার বাবার হয়েই কোরবানির পশু কিনতে এসেছেন।

একজন রাজস্ব কর্মকর্তার বেতন মাসে ১ লাখ টাকার বেশি হওয়ার কথা না। সরকারি পে-স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন প্রথম গ্রেডে, ৭৮,০০০। যদি উনি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বেতনও পান আবাসন ভাতা সহ সব মিলায়ে এবং তার মাসিক খরচ ৩০ হাজারের মত হয়, তার মাসে বৈধ নেট ইনকাম বড়জোর ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

রাজস্ব কর্মকর্তার ছেলে তাহলে কোরবানির জন্য ১২ লাখ টাকার ছাগল আর মোট ৫০ লাখ টাকার কোরবানির পশু কেনার টাকা কই পায়? তার বেতন দেড় লাখ ধরে নিলেও ৫০ লাখ টাকা জমাইতে তার অন্তত ৪ বছর লাগার কথা।
উনি কি ৪ বছর ধরে সমস্ত টাকা পয়সা জমান শুধু একবার কোরবানি দেয়ার জন্য?

অসম্ভব। আরেকটা কথা বলা দরকার, তিনি শুধু এই বছরই ৫০ লাখ টাকার পশু কোরবানি দিয়েছেন এমন না, গত বছরেও নাকি তিনি ৫০-৬০ লাখ টাকার পশু কিনেছিলেন। ধরে নেয়া যায় বেশ কয়েক বছর ধরেই তার কোরবানির পশুর পিছনে খরচ ৩০-৪০ লাখের ঘরে।

কোরবানির পশুর পিছনে খরচ থেকে কারো ধন-সম্পদ একুরেটলি প্রেডিক্ট করা অসম্ভব, তবে আমরা একটা রাফ প্রেডিকশন দিতে পারি।

সহজ একটা এনালজি দেই,

বছরে ২০ লাখ ইনকাম করা একজন মানুষ যদি ম্যাক্সিমাম এক থেকে দেড় লাখ টাকার গরু কোরবানি দেয়,

এই ৫০ লাখ টাকার পশু কোরবানি দেয়া এই রাজস্ব কর্মকর্তার বছরে ইনকাম অন্তত ১০ কোটি টাকা হওয়ার কথা। আমার ধারণা প্রতি বছরে তার আয় এর চেয়েও বেশি।

কোরবানির পিছনেই ৫০ লাখ টাকা খরচ করার মত ক্যাপাসিটি থাকা রাজস্ব কর্মকর্তার আসল/মোট সম্পদের পরিমাণ কত?

রাজস্ব কর্মকর্তার ম্যাক্সিমাম ৬০-৭০ হাজার টাকা বেতনে তার বাৎসরিক আয় কোটি কোটি টাকা কীভাবে হচ্ছে?

আরেকটা বিষয় বলা দরকার।

কেউ যদি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়ে কোন দুর্নীতি/অবৈধ আয় করতে চায়, তাহলে সে পুরো টাকাটাই ঐ কর্মকর্তাকে দিয়ে দেয় না।

উদাহরণ দেই, আপনি যদি একটা টেন্ডার পাইতে চান, টেন্ডার থেকে আপনি যদি ২০ কোটি টাকা মেরে দেন, আপনি টেন্ডারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকেই ২০ কোট দিয়ে দিবেন না। আপনি তাকে দিবেন বড়জোর ৫০ লাখ বা আরো কম। আপনি ১০০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাকি দিতে চাইলে কর্মকর্তাকে আপনি দিবেন বড়জোর ১ কোটি টাকা।
রাজস্ব কর্মকর্তারা কোন রেটে ঘুষ নেন তা আমার জানা নাই, কারো আইডিয়া থাকলে জানিয়ে যাবেন।

এই রাজস্ব কর্মকর্তার আয় যদি বছরে ১০-২০ কোটি টাকাও হয়ে থাকে, শুধু এই এক কর্মকর্তার জন্য প্রতি বছর কত হাজার কোটি টাকা গাপ হয়ে যাচ্ছে জনগণের কাছ থেকে?

Leave a Reply