ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে ক্ষয়ক্ষতির কারনে পটুয়াখালী জেলা ২৯মে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট স্থগিত

শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

উপজেলা নির্বাচন: তৃতীয় ধাপের ভোট গ্রহণ ২৯ মে, ৩০০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, বাংলাদেশের ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপের ভোট গ্রহণ হবে বুধবার (২৯ মে)। ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়, ইতোমধ্যেই সারাদেশে ৩০০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবি সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৯ মে’র নির্বাচনে, স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ২৭ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় বিজিবি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে।


এদিকে, ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে ক্ষয়ক্ষতির কারণে আগামী ২৯ মে অনুষ্ঠেয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে, ১৯টির ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সোমবার (২৭ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব জাহাংগীর আলম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২৯ মে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে মোট ৯০ টি উপজেলা পরিষদে ভোট গ্রহণ করা হবে।
যে ১৯টি উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে উপকূলীয় জেলা ১৮টি এবং রাঙামাটির একটি উপজেলা রয়েছে।


উপজেলাগুলো হলো: বাগেরহাট জেলার শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও মংলা; খুলনা জেলার কয়রা, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া; বরিশাল জেলার গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া; পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলা, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি; পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া; ভোলার তজুমদ্দিন ও লালমোহন; ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া, বরগুনা জেলার বামনা ও পাথরঘাটা এবং রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি।


বাংলাদেশে চার ধাপে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২১ মার্চ (বৃহস্পতিবার) প্রথম ধাপের ১৫২টি উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণ হয় ৮ মে।
দ্বিতীয় ধাপের ১৬১টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হয় ২১ মে। তৃতীয় ধাপে ১১২টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো ২৯ মে। ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে ক্ষয়ক্ষতির কারণে, ১৯টিতে ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
চতুর্থ ধাপের উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৫ জুন। চতুর্থ ধাপে ৫৪টি উপজেলায় ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।


বাংলাদেশের ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে, ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। গত ২১ মে বিকালে, নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
ওই দিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ১৫৬ টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ চলে।ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কম দেখা গেছে। এছাড়া, বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি বিক্ষিপ্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।


ইসি সচিব জাহাংগীর আলম গণমাধ্যমকে জানান, দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনের প্রথম চার ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ১৭ শতাংশ।
নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে ভোট গ্রহণ হয়েছে ১৫৬টি উপজেলায়। এসব উপজেলায়, ভোটকেন্দ্র ছিলো ১৩ হাজার ১৬টি।


ভোটার ছিলেন, পুরুষ ১ কোটি ৭৯ লাখ ৫ হাজার ৪৬৪ জন; নারী ১ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭ জন; আর, তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ছিলেন ২৩৭ জন।
১৫৬ টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ মোট ৪৬৮টি পদের বিপরীতে; ৬০৩ জন চেয়ারম্যানসহ ১ হাজার ৮২৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।


৯টি জেলার ২৪টি উপজেলায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হয়; বাকি উপজেলায় প্রচলিত ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হয়েছে ভোট গ্রহণের জন্য।
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। গত ৮ মে বিকেলে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।“ বৃষ্টি ও ফসল কাটা নিয়ে ব্যস্ততার কারণে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে।” কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান হাবিবুল আউয়াল।
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে দেশের ৫৯ জেলার ১৩৯টি উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।


১৩৯টি উপজেলা পরিষদে প্রতিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট ৪১৭টি পদের বিপরীতে প্রায় ৫৭০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ মোট ১ হাজার ৬৩০ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে ২ কোটি ৮০ লাখের বেশি ভোটার ছিলেন
বাংলাদেশের অন্যতম নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেছেন, জাতীয় বা স্থানীয় সরকার নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য কত শতাংশ ভোট লাগবে, সে বিষয়ে কোনো বিধি, প্রবিধান বা বাধ্যবাধকতা নেই। গত ২০ মে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
“নির্বাচন কমিশন এটা নিয়ে মাথা ঘামায় না। ইসি যে কোনো হারেরই ভোটে সন্তুষ্ট হবে;” তিনি যোগ করেন।উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ায় যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, সে প্রসঙ্গে এ কথা বলেন কমিশনার আলমগীর।
নির্বাচন কমিশনার আলমগীর আরো বলেন, ফসল কাটা, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অনুপস্থিতির কারণকে অপ্রত্যাশিত ভোটার উপস্থিতি হয়েছে।
“এটা নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা বা অনাস্থার বিষয় নয়;” তিনি আরো বলেন। পছন্দের প্রার্থী না পাওয়া এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ভোটার উপস্থিতি কমেছে বলেও জানান তিনি।
“তবে কত শতাংশ ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক হবে, সে বিষয়ে ইসির কোনো বাধ্যবাধকতা নেই;” উল্লেখ করেন নির্বাচন কমিশনার আলমগীর।


তিনি বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। বিশ্বব্যাপী নির্বাচন নিয়ে মানুষের আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে এবং এটি আমাদের দেশের জন্য অনন্য কোনো সমস্যা নয়।”
জনগণকে ভোট কেন্দ্রে না যেতে উদ্বুদ্ধ করতে, লিফলেট বিতরণ করছে বিএনপি। এটা তাদের রাজনৈতিক অধিকার এবং তারা তা করতেই পারে। তবে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

Leave a Reply